Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি ইন্ডাস্ট্রিতে বড় ইঙ্গিত মিলছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-এর দ্রুত বিস্তারের ফলে আগামী কয়েক বছরে ভারতীয় IT সংস্থাগুলির প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত রাজস্ব কমে যেতে পারে, এমনটাই বিভিন্ন বিশ্লেষণ থেকে উঠে এসেছে। আর এই পরিস্থিতিকে বিশেষজ্ঞরা ‘AI ডিফ্লেশন’ বলছেন। অর্থাৎ একই কাজ এখন আগের তুলনায় অনেকটা কম সময় এবং কম খরচে করা সম্ভব হচ্ছে। যার ফলে আগের তুলনায় কর্মী কমিয়েও AI-এর সাহায্যে বেশি কাজ করা সম্ভব হচ্ছে, তবে আয় বাড়ছে না।
আধুনিক AI টুল, অটোমেশন এবং কোড জেনারেশন প্রযুক্তির সাহায্যে IT পরিষেবা সংস্থাগুলি দ্রুত কাজ শেষ করতে পারছে। ফলে ক্লায়েন্টদের মধ্যে একটি নতুন প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, আর তারা আগের মতো বেশি টাকা দিতে রাজি নয়। বরং তারা চাইছে কম খরচে একই পরিষেবা। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে IT কোম্পানিগুলির আয়ের ওপর। আগে একটি বড় প্রজেক্টের জন্য যে পরিমাণ অর্থ পাওয়া যেত, এখন সেই একই প্রজেক্টের জন্য কম অর্থ মিলছে। শুধু তাই নয়, বড় বড় চুক্তির বদলে এখন ছোট ছোট চুক্তির সংখ্যা বাড়ছে। এতে করে সংস্থাগুলির মোট রাজস্ব ধীরে ধীরে কমে আসছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে প্রতি বছর প্রায় ৩% থেকে ৩.৫% পর্যন্ত রাজস্ব কমার প্রবণতা দেখা যেতে পারে। এই হারে চলতে থাকলে পুরো IT খাত মিলিয়ে প্রায় ১০ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত আয় কমে যেতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিও এই আশঙ্কাকে আরও জোরালো করছে। ইতিমধ্যেই অনেক বড় IT সংস্থায় নতুন নিয়োগ কমে গেছে। কোথাও কোথাও কর্মী ছাঁটাইয়ের খবরও মিলছে।
পাশাপাশি, অনেক প্রজেক্টে আয় ৫% থেকে ১৫% পর্যন্ত কমে যাওয়ার ঘটনাও সামনে এসেছে। ফলে বোঝাই যাচ্ছে, এই পরিবর্তন ভবিষ্যতের নয়, বরং এখন থেকেই তার প্রভাব দেখা যাচ্ছে। তবে পুরো বিষয়টি একেবারেই নেতিবাচক নয়। AI যেমন পুরনো ধাঁচের কাজের ওপর চাপ তৈরি করছে, তেমনই নতুন সুযোগও তৈরি করছে। AI-ভিত্তিক পরিষেবা, ডেটা অ্যানালিটিক্স, অটোমেশন কনসাল্টিং—এই সব ক্ষেত্রেই নতুন চাহিদা বাড়ছে। যে সংস্থাগুলি দ্রুত নিজেদের এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে, তারাই ভবিষ্যতে এগিয়ে থাকবে।




