Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডারে সামন্য পতন ঘটেছে। ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ শেষ হওয়া সপ্তাহে দেশের ফরেক্স রিজার্ভ ২.১১ বিলিয়ন ডলার কমে দাঁড়িয়েছে ৭২৩.৬০৮ বিলিয়ন ডলারে। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় ব্যাংক রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাপ্তাহিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এই পতনের প্রধান কারণ বিদেশী মুদ্রার সম্পদ (Foreign Currency Assets)-এ হ্রাস। ডলারের বিপরীতে ইউরো, ইয়েন এবং পাউন্ডের মতো প্রধান মুদ্রার ওঠানামার প্রভাবও রিজার্ভের ওপর পড়েছে। RBI-এর সাপ্তাহিক পরিংসখ্যান অনুযায়ী, রিজার্ভ কমার প্রধান কারণ বিদেশী মুদ্রা বা ফরেন কারেন্সি অ্যাসেটের হ্রাস।
২.১১ বিলিয়ন ডলারের পতন সত্ত্বেও ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার অবস্থান এখনও যথেষ্ট শক্তিশালী। আসলে ভারতের ফরেক্স রিজার্ভ চারটি প্রধান উপাদান নিয়ে গঠিত; – বিদেশী মুদ্রা, সম্পদ, গোল্ড রিজার্ভ, স্পেশল ড্রয়িং রাইটস (SDR) এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলে রিজার্ভ পজিশন। সাম্প্রতি সপ্তাহে বিশেষ রুপে বিদেশী মুদ্রা সম্পদের অংশে হ্রাসই মূলত রিজার্ভ কমার জন্য দায়ী। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন উদ্বেগের কারণ নয়। কারণ ভারতের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার এখনও ৭০০ বিলিয়ন ডলারের অনেক উপরে রয়েছে। যা দেশের আমদানি খরচের কয়েক মাসের জন্য যথেষ্ট।
এছাড়া আন্তর্জাতিক অস্থিরতার সময়ে এই শক্তিশালী রিজার্ভ অর্থনীতিকে সুরক্ষা প্রদান করে এবং প্রয়োজনে রুপির অস্থিরতা সামাল দিতে সহায়তা করে। বিশ্ব অর্থনীতিতে বর্তমানে সুদের হার, ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং তেলের দামের ওঠঅনামা বা ভোলাটিলিটি বড় প্রভাব ফেলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা এবং শক্তিশালী ডলার উদীয়মান অর্থনীতিগুলির উপর চাপ সৃষ্টি করছে। আর এই প্রেক্ষপটে ভারতের রিজার্ভে সামান্য ওঠানামা স্বাভাবিক বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের (FII) বিনিয়োগ প্রবাহ, রপ্তানি আয় এবং আন্তর্জাতিক অপরিশোধিত তেলের দাম আগামী সপ্তাহগুলিতে রিজার্ভের গতিপথ নির্ধারণ করতে পারে। প্রয়োজনে বাজারে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে রুপির স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারে রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া।




