Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ সালে প্রবেশ করার সময় ভারতীয় রুপি বেশ চাপে রয়েছে। ২০২৫ সাল জুড়ে ডলারের তুলনায় রুপির দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে এবং বছর শেষে এই পতন দাঁড়িয়েছে গত তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বড় বার্ষিক অবমূল্যায়ন হিসেবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই দুর্বল সূচনা নতুন বছরে মুদ্রাবাজারে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০২৫ সালে রুপির ওপর সবচেয়ে বড় চাপ এসেছে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রত্যাহার থেকে। বৈশ্বিক সুদের হার দীর্ঘ সময় উঁচু থাকার কারণে বহু বিদেশি বিনিয়োগকারী ভারতীয় শেয়ার ও বন্ড বাজার থেকে টাকা তুলে যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপদ সম্পদের দিকে ঝুঁকেছেন। এদিকে ২০২৬ সালে ভারতীয় রুপি শুরু করেছে পিছিয়ে থাকা অবস্থায়।
ডলারের চাহিদা বেড়েছে এবং রুপির দর নেমেছে। এর পাশাপাশি আমদানি ব্যয় বৃদ্ধি, বিশেষ করে অপরিশোধিত তেল ও অন্যান্য পণ্যের দাম বাড়ায়, বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা আরও বেড়েছে। এতে ভারতের চলতি হিসাবের ঘাটতির ওপর চাপ তৈরি হয়েছে, যা রুপির দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিশ্ব অর্থনীতির দিক থেকেও পরিস্থিতি রুপির অনুকূলে ছিল না। মার্কিন অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকায় ডলার সূচক উচ্চ স্তরে ছিল। একই সঙ্গে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাণিজ্য সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে উদীয়মান বাজারের মুদ্রাগুলি সামগ্রিকভাবে চাপের মুখে পড়ে, যার প্রভাব পড়েছে ভারতীয় রুপির ওপরও।
রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI বাজারে অস্থিরতা নিয়ন্ত্রণে মাঝেমধ্যে হস্তক্ষেপ করলেও, তারা রুপিকে একটি নির্দিষ্ট স্তরে বেঁধে রাখার বদলে ধীরে ধীরে সমন্বয়ের নীতি বজায় রেখেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই মূলত অতিরিক্ত অস্থিরতা রোধে সক্রিয় থাকলেও বাজারের বাস্তবতা অনুযায়ী রুপিকে চলতে দেওয়া হয়েছে। ২০২৬ সালের দিকে তাকালে অর্থনীতিবিদদের মত, বছরের প্রথম দিকে রুপির ওপর চাপ কিছুটা অব্যাহত থাকতে পারে। তবে যদি বিদেশি বিনিয়োগ আবার ফিরতে শুরু করে, তেলের দাম স্থিতিশীল থাকে এবং বৈশ্বিক সুদের হার কমার ইঙ্গিত পাওয়া যায়, তাহলে বছরের মাঝামাঝি সময়ে রুপি কিছুটা স্থিতিশীলতা ফিরে পেতে পারে। তবে নতুন বছরে রুপির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে বৈশ্বিক বাজার, বিদেশি বিনিয়োগের প্রবাহ এবং আরবিআইয়ের নীতিগত পদক্ষেপের ওপর।




