Article By – সুনন্দা সেন

বিশ্ব অর্থনীতি যখন অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়েও ঠিক আগের মত এই সময়েও ভারতের বৃদ্ধির ধারাকে নিয়ে আশাবাদী রইল আন্তর্জাতিক সংস্থা OECD। সংস্থাটি তার সাম্প্রতিক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক আউটলুকে জানিয়েছে, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে ভারতের GDP প্রবৃদ্ধি হার থাকবে ৬.৭%; অর্থাৎ আগের পূর্বাভাস অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। বৈশ্বিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ভারত যে শক্তিশালী অর্থনৈতিক অবস্থানে রয়েছে, তা আবারও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি পেল। রিপোর্টে OECD জানিয়েছে, ভারতের প্রবৃদ্ধিকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে তিনটি প্রধান শক্তি—মজবুত অভ্যন্তরীণ চাহিদা, অবকাঠামোতে বড় আকারের সরকারি বিনিয়োগ, এবং ডিজিটাল ও সেবা খাতের দ্রুত সম্প্রসারণ।
এদিকে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতকে শক্তিশালী করতে সরকারের বিভিন্ন প্রোডাকশন-লিঙ্কড ইনসেনটিভ স্কিমও ভবিষ্যতের বৃদ্ধিকে স্থিতিশীল করবে বলে আশা ব্যক্ত করা হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, ভারতের তরফে ধারাবাহিক সংস্কার, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, এবং কর-ব্যবস্থার উন্নতি দেশীয় ও বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণে বড় ভূমিকা রাখছে। যার ফলে আগামী কয়েক বছরের বৃদ্ধি চক্রাকারে পরিবর্তন হওয়ার আগে, তুলনা মূলকভাবে আরও শক্তিশালী হতে পারে। তবে OECD পাশাপশি কিছু ঝুঁকির দিক নিয়ে সতর্কও করেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতির শ্লথগতি, মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের ভূ-রাজনৈতিক টানাপোড়েন, অপরিশোধিত তেলের উচ্চ মূল্য, এবং আমদানি খরচ বাড়ার ফলে রুপির ওপর চাপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
OECD মনে করছে, সব মিলিয়ে আগামী প্রান্তিকে ভারতের ওপর বহিরাগত ঝুঁকি বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। আর ভারত বিশ্বের দ্রুততম-বর্ধনশীল বড় অর্থনীতির তালিকায় চলতি অর্থবছরেও শীর্ষস্থান ধরে রাখবে। সাথে বিনিয়োগ গতি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, আর্থিক স্থিরতা এবং ভোক্তা ব্যয়, সবমিলিয়ে সামনের বছরগুলো ভারতের জন্য ইতিবাচক থাকার ইঙ্গিতই দিচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের মতে, OECD-র এই আস্থা বিদেশি বিনিয়োগ ও বাজার-মনোভাবের ওপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, যা দেশের অর্থনীতিতে আরও গতি যোগ করবে। ভারতের বৃদ্ধি যদি একই গতিতে অব্যাহত থাকে, তবে এই বছরেই ৬.৭%–এর চেয়েও বেশি অর্জন করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরাই মনে করছেন।




