Article By – সুনন্দা সেন

দেশের শীর্ষ শিল্প সংগঠন FICCI জানিয়েছে, ভারতের অর্থনীতি চলতি অর্থবছরে ৭% বা তারও বেশি GDP প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে পারে। সংস্থার সাম্প্রতিক কোয়ার্টারলি সমীক্ষা বলছে, দেশের শিল্প উৎপাদন, অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও বিনিয়োগ গতি ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে, আর তা আগামী ত্রৈমাসিকগুলোতে আরও গতি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাথে FICCI-র সমীক্ষায় আরও দেখা গেছে, দেশের ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর শক্তিশালী পুনরুদ্ধারের পথে। বেশিরভাগ কোম্পানি জানিয়েছে, দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে উৎপাদন আগের তুলনায় বেড়েছে বা স্থিতিশীল থেকেছে। পাশাপাশি, আগামী মাসগুলোতে নতুন অর্ডার বাড়বে বলে প্রত্যাশা করছেন শিল্পপতিরা।
FICCI জানিয়েছে যে শুধু শিল্প বা উৎপাদন নয়, পরিষেবা খাতসহ একাধিক সেক্টরে সমানভাবে ভারসাম্যপূর্ণ প্রবৃদ্ধি দেখা যাচ্ছে। এর ফলে GDP প্রবৃদ্ধি কোনও একক খাতের ওপর নির্ভর করছে না; বরং বিভিন্ন খাতের শক্তিশালী পারফরম্যান্স সামগ্রিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আর এই বৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ ৭%+ জিডিপি প্রবৃদ্ধি মানে ভারত এখনও বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল বড় অর্থনীতিগুলোর একটি। ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর শক্তিশালী হলে চাকরির সুযোগ বাড়বে, রফতানি সম্ভাবনা উন্নত হবে এবং দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগ আরও আকৃষ্ট হবে। আর পরিষেবা ও শিল্প, দু’টি খাতের সম্মিলিত জোর ভারতকে একটি balanced growth কাঠামো দিচ্ছে, যা ভবিষ্যত প্রবৃদ্ধিকে আরও স্থিতিশীল করবে।
যদিও FICCI ভারতের অর্থনীতির জন্য ৭% বা তার বেশি প্রবৃদ্ধির আশাবাদ ব্যক্ত করেছে, তবে এই গতিকে ধরে রাখতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। বৈশ্বিক বাজারে চাহিদা দুর্বল হওয়ায় ভারতের রফতানি নির্ভর খাতগুলো চাপের মুখে পড়তে পারে, বিশেষত ইউরোপ ও আমেরিকার অর্থনৈতিক ধীরগতি আন্তর্জাতিক অর্ডার কমিয়ে দিতে পারে। বাণিজ্য রুটের অনিশ্চয়তা আন্তর্জাতিক সাপ্লাই চেইনকে ব্যাহত করছে এবং পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে কাঁচামালের দামে অস্বাভাবিক ওঠানামা তৈরি করছে। তেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দাম বাড়লে আমদানি বিল বৃদ্ধি পায়, আর কৃষি-সংক্রান্ত পণ্যের দামের পরিবর্তন দেশের মুদ্রাস্ফীতি ও কৃষিখাত উভয়ের ওপর চাপ বাড়ায়।




