Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বিদ্যুৎ খাত এখন বিশ্বের অন্যতম বড় বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হচ্ছে। সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতি মাসে গড়ে ৪ থেকে ৫ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা যোগ হচ্ছে। যার ফলে আগামী কয়েক বছরে এই খাতে প্রায় ৫০০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের বিনিয়োগ তৈরি হয়েছে। সরকার ও শিল্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিদ্যুৎ চাহিদার দ্রুত বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক সম্প্রসারণ এবং গ্রিণ এনার্জির দিকে অগ্রসর হওয়ার কারণেই এই বিপুল বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরী হয়েছে। ভারতের অর্থনীতি যত অগ্রসর হচ্ছে ততই বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ছে। শিল্প, পরিষেবা খাত, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে বিদ্যুৎ খাতে ধারাবাহিকভাবে নতুন ক্ষমতা যুক্ত করতে হচ্ছে।
বিশেষ করে সৌর ও বায়ুশক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানির ক্ষেত্রে দ্রুত অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে। সরকারের লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে বড় পরিসরে গ্রিণ এনার্জি উৎপাদন ক্ষমতা গড়ে তোলা, যা এই বিনিয়োগ প্রবাহকে আরও ত্বরান্বিত করছে। বিদ্যুৎ খাতে এই দ্রুত ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে শুধু উৎপাদন নয়, ট্রান্সমিশন ও ডিস্ট্রিবিউশন ক্ষেত্রেও বড় বিনিয়োগের প্রয়োজন হচ্ছে। নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে সঙ্গে গ্রিড আধুনিকীকরণ, স্মার্টমিটার, এনার্জি রিস্টোর সিস্টেম এবং ব্যাটারি স্টোরেজ প্রযুক্তিতে বা উল্লেখিত ক্ষেত্রে বিপুল সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেও জানা যাচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে এনার্জি স্টোরেজ ও গ্রিড স্থিতিশীলতা এই খাতের অন্যতম প্রধান বিনিয়োগ ক্ষেত্র হয়ে উঠবে। বিদেশী বিনিয়োগকারীদের কাছেও ভারতের বিদ্যুৎ খাত বিশেষ আকর্ষনীয় হয়ে উঠেছে। স্থিতিশীল নীতিগত পরিবেশ, দীর্ঘমেয়াদি চাহিদা এবং সরকারের গ্রিণ এনার্জি ট্রান্সপারের পরিকল্পনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে দেশীয় বেসরকারি সংস্থাগুলিও নতুন প্রকল্পে বড় অঙ্কের মূলধন বিনিয়োগ করছে। এর ফলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। আর আগামী দিনে এই খাতই দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও এনার্জি সিকিউরিটির মূল স্তম্ভ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।




