Article By – সুনন্দা সেন

২০২৬ মার্কেটিং ইয়ারের (MY) ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত ভারত থেকে মোট প্রায় ২.০১ লক্ষ টন চিনি রপ্তানি হয়েছে। শিল্প সংস্থা AISTA (All India Sugar Trade Association) -এর দ্বারা প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মরসুমে রপ্তানির পরিমাণ আগের কয়েক বছরের তুলনায় অনেকটাই কম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর প্রধান কারণ কেন্দ্রীয় সরকারের সতর্ক রপ্তানি নীতি। দেশীয় বাজারে পর্যাপ্ত চিনি সরবরাহ বজায় রাখা এবং খাদ্যদ্রব্যের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার রপ্তানির ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা বজায় রেখেছে।
যার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে চাহিদা থাকলেও ভারত থেকে বড় পরিমাণে চিনি পাঠানো হয়নি। ভারত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চিনি উৎপাদক দেশ। তাই সরকার সাধারণত প্রথমে দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণ নিশ্চিত করে, তারপর অতিরিক্ত মজুত থাকলে রপ্তানির অনুমতি দেয়। চলতি বছরেও একই নীতি অনুসরণ করা হয়েছে যাতে দেশের বাজারে চিনি দামের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি না ঘটে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপর চাপ না বাড়ে। শিল্পমহলের ধারণা, যদি আগামী মাসগুলিতে আখ উৎপাদন ভালো থাকে এবং চিনি মজুত সন্তোষজনক পর্যায়ে থাকে, তাহলে বছরের পরবর্তী সময়ে রপ্তানির নিয়ম কিছুটা শিথিল হতে পারে।
তবে আবহাওয়া, উৎপাদন এবং দেশীয় দামের পরিস্থিতির উপরই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সীমিত রপ্তানি স্বল্পমেয়াদে আন্তর্জাতিক বাজারে ভারতের অংশ কমাতে পারে, কিন্তু এতে দেশীয় বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং সাধারণ ভোক্তার জন্য দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হয়। অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২.০১ লক্ষ টন চিনি রপ্তানির এই পরিসংখ্যান দেখাচ্ছে যে চলতি বছরে সরকার স্পষ্টভাবে দেশীয় সরবরাহকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে এবং সতর্কভাবে রপ্তানি পরিচালনা করছে। আগামী মাসগুলির উৎপাদন ও বাজার পরিস্থিতিই ঠিক করবে ভারতের চিনি রপ্তানির ভবিষ্যৎ গতি।




