Article By – সুনন্দা সেন

শিপ ট্র্যাকিং তথ্য অনুসারে, মূলত বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যবহৃত থার্মাল কোলের আমদানি ফেব্রুয়ারি মাসে টানা ষষ্ট মাসের জন্য হ্রাস পেয়েছে। উৎপাদন কার্যকলাপে মন্দার কারণে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদন আগের তুলনায় অনেকটাই শ্লো ডাউন হয়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর থেকে এটিই দীর্ঘতম ধারাবাহিকতা, যখন আট মাস ধরে আমদানি হ্রাস পেয়েছে। বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল প্রধান অর্থনীতির উৎপাদন কার্যক্রম এক বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল গতিতে নেমে এসেছে। যার ফলে বিশ্বব্যাপী থার্মাল কোল প্রাইস হ্রাস পেয়েছে।
ভারতীয় পরামর্শদাতা প্রতিষ্ঠান বিগমিন্টের তথ্য অনুসারে, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম আমদানিকারক ভারতের থার্মাল কোলের আমদানি ফেব্রুয়ারি মাসে ১৫.৩% কমে ১ কোটি ২১ লক্ষ মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫-এ শেষ হওয়া ছয় মাসের আমদানি ২০% কমে ৭৭.৩ মিলিয়নে দাঁড়িয়েছে। উৎপাদন মন্দার পাশাপাশি দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি এবং রিনায়াবেল এনার্জি উৎপাদনের উচ্চ অংশও আমদানি কমাতে অবদান রেখেছে। যার ফলে বছরের প্রথম দুই মাসে দেশের কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উপাদানও স্থিতিশীল ছিল। অবশ্য আগামী এপ্রিল থেকে জুন মাসে বিদ্যুৎ খরচ বাড়বে আশা করা হচ্ছে। যার কারণে আগামী মাসগুলিতে কয়লার ব্যবহারও বাড়বে। তবে অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে আমদানির বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম।
বিশ্বব্যাপী চাহিদা কমে যাওয়ার আশঙ্কার মধ্যে ২০২৫ সালে বহু বছরের সর্বনিম্নে দাম নেমে যাওয়ার পর সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলিতে থার্মাল কোলের দাম কিছুটা বাড়েছে। তবে, এখনও আগের দশকের দ্বিতীয়ার্ধের তুলনায় ৩০%-এরও বেশি দামে লেনদেন হচ্ছে। ভারতের থার্মাল কোল আমদানিতে ধারাবাহিক হ্রাস এমন এক সময়ে এসেছে, যখন শীর্ষ আমদানিকারক চীনের দ্বারা কেনা কয়লার চালান বৃদ্ধি পাচ্ছে। যদিও বিশ্লেষক এবং শিল্প কর্মকর্তারা সামনের মাসগুলিতে সম্ভাব্য ঝুঁকির কথা উল্লেখ করেছেন।




