Article By – সুনন্দা সেন

ইরানকে ঘিরে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব এবার সরাসরি পড়ছে বৈশ্বিক তেল বাজারে, আর তার বড় ধাক্কা লাগতে পারে ভারতের অর্থনীতিতে। কেন্দ্রের শীর্ষ আধিকারিকরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন—এই তেল সংকটের প্রভাব কোভিড-১৯ প্যান্ডামিকের মতোই বিস্তৃত এবং দীর্ঘমেয়াদি হতে পারে। মূল সমস্যা শুরু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ রুট, বিশেষ করে স্ট্রেইট অফ হরমুজে বিঘ্ন ঘটার ফলে। এই পথ দিয়েই বিশ্বের বড় অংশের অপরিশোধিত তেল পরিবহন হয়। যুদ্ধের কারণে সেই সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম অস্থির হয়ে উঠেছে। এছাড়াও সরকারের উপর বাড়তে পারে আর্থিক চাপ।
ভারত যেহেতু তার প্রয়োজনীয় তেলের প্রায় ৮৫% আমদানি করে, তাই এই পরিস্থিতির সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশের ওপর। তেলের দাম বাড়লে শুধু পেট্রোল-ডিজেল নয়, পরিবহন খরচ বাড়ে, যার ফলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব জিনিসের দাম বাড়তে শুরু করে। ফলে মুদ্রাস্ফীতি বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পরিস্থিতি দেশের অর্থনৈতিক বৃদ্ধির গতিকেও ধাক্কা দিতে পারে। উৎপাদন খরচ বেড়ে গেলে শিল্পক্ষেত্রে চাপ বাড়ে, ব্যবসা কমে, এবং কর্মসংস্থানেও প্রভাব পড়তে পারে। ছোট ও মাঝারি ইডাস্ট্রি, বিশেষ করে যাদের উপর ভারতের অর্থনীতির বড় অংশ নির্ভর করে—তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
একই সঙ্গে রুপির ওপর চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। আর এই পরিস্থিতিকে কোভিডের সঙ্গে তুলনা করার কারণ হল—দুটো ক্ষেত্রেই অর্থনীতির একাধিক স্তরে একসঙ্গে ধাক্কা লেগেছে। কোভিডের সময় যেমন সরবরাহ ব্যবস্থা এবং চাহিদা—দুটোই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল, তেমনই এবার তেলের সরবরাহে ধাক্কা লাগার ফলে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে একযোগে প্রভাব পড়ছে। তবে একমাত্র ইতিবাচক দিক হল—কোভিডের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে সরকার এখন কিছুটা প্রস্তুত। বিকল্প দেশ থেকে তেল আমদানি, কৌশলগত মজুত ব্যবহার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী অর্থনৈতিক সহায়তা দেওয়ার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।




