Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় পণ্যের উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US)- এর ৫০% শুল্ক কার্যকর হওয়ার একদিন পর ভারত সরকার কাঁচা তুলো আমদানির শুল্ক এবং কৃষি সেচের উপর ছাড়ের মেয়াদ বাড়িয়ে ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত করেছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতে, প্রাথমিকভাবে ১৯ আগস্ট থেকে ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই ছাড় থাকবে বলে জানানো হয়েছিল। তবে তা এখন বছরের শেষ তিন মাসের জন্যেও বাড়ানো হয়েছে। আর এই ছাড়ের আগে ভারতে তুলো আমদানির উপর সমগ্র ভাবে একত্রিত রূপে প্রায় ১১% শুল্ক আরোপ করা হত। যা এখন শূণ্যে নেমে এসেছে। আর মেয়াদ বাড়ানোর সীদ্ধান্তটি এক গুরুত্বপূর্ণ সময় এসেছে। কারণ US ভারতীয় পণ্যে পারস্পরিক শুল্ক আরোপের সাথে বানিজ্য আলোচনা স্থগিত করেছে।
গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভ (GTRI)-এর প্রতিষ্ঠাতা অজয় শ্রীবাস্তব বলেন, এই সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপটি অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীলতা রক্ষ করার পাশাপাশি মার্কিন উদ্বেগগুলির সাথে মোকাবিলা করতে সাহায্য করবে। এদিকে ভারতের তুলো উৎপাদন কমে যাচ্ছে। ২০২২-২৩ সালে প্রায় ৩৩.৭ বিলিয়ন বেল থেকে ২০২৪-২৫ সালে উৎপাদন কমে আনুমানিক ৩০.৭ মিলিয়ন বেলে দাঁড়িয়েছে। আর ঠিক এই পতনের কারণে মিলগুলি তুলো আমদানি বাড়াতে বাধ্য হচ্ছে। এছাড়া শিল্প সংগঠন সসতর্ক করে দিয়েছিল যে সরবরাহের অভাব সুতো এবং পোশাকের খরচ বাড়িয়ে দিতে পারে, যা রপ্তানির জন্য ঠিক নয়। আর ৩৫ মিলিয়ন মানুষ টেক্সটাইল শিল্পের উপর নির্ভরশীল আর ৮০% টেক্সটাইল তুলোর উপর। অর্থাৎ শুল্ক ছাড়ের কাঁচা মালের দাম কম থাকবে।
অবশ্য এই পদক্ষেপটি আমেরিকান রপ্তানিকারকদের জন্য একটি সরাসরি সুযোগ প্রদান করে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ১.২ বিলিয়ন ডলার তুলো আমদানি করে, যার বেশির ভাগ ছিল মার্কিন সরবরাহকারীদের। যেখানে তার আগের বছর তুলো আমদানি ছিল ১.৫২ মিলিয়ন বেল। US-এর সাথে ব্রাজিল, মিশর, বেনিন এবং তানজানিয়ার মতো আফ্রিকান উৎপাদকরা ছিল প্রধান সরবরাহকারী। ক্রিসিল রেটিং-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারত থেকে আমদানির উপর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক ৫০% শুল্ক আরোপের ফলে চলতি অর্থবছরে ভারতের তৈরি টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির রাজস্ব বৃদ্ধি প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর ফলে লাভের হার হ্রাসের সাথে সাথে, এই শিল্পের সাথে যুক্ত কোম্পানিগুলির ঋণের মানদণ্ডের উপর প্রভাব পড়বে। কোম্পানিভেদে এর প্রভাব ভিন্ন হবে।




