Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও জাপান যৌথভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে মুম্বাই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডোরে প্রাথমিকভাবে দেশীয়ভাবে তৈরি হাইস্পিড ট্রেন এবং আন্তর্জাতিক মানের ইন্টারঅপারেবল সিগন্যালিং ব্যবস্থা ব্যবহার করা হবে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কারণ জাপানের পরবর্তী প্রজন্মের ই ১০ শিনকানসেন (E 10 ShinKansen) নির্ধারিত সময়ে সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। যার ফলে ২০২৭ সালে প্রকল্পের প্রথম ধাপ চালু রাখতেই এই বিকল্প বেছে নেওয়া হয়েছে। সাথে দুই দেশ জানিয়েছে, এটি দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার অংশ এবং প্রকল্পের সময়সূচি বজায় রাখাই মূল লক্ষ্য।
অবশ্য সাম্প্রতি এক প্রাক্তন জাপানি মন্ত্রীর মন্তব্য ঘিরে যে জল্পনা তৈরি হয়েছি, তা খারিজ করে ভারত স্পষ্ট করেছে যে প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত পরিকল্পনা মাফিক এগোচ্ছে। বর্তমানে ৫০৮ কিলোমিটার দীর্ঘ মুম্বাই-আমেদাবাদ বুলেট ট্রেন করিডোরের নির্মাণ কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। প্রথম ধাপে সুরাট থেকে বিলিমোরা বা সুরাট-ভাপি অংশে ২০২৭ সালে পরিষেবা চালুর লক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। আর সেই পরিষেবায় ভারতীয় প্রযুক্তিতে তৈরি B28 হাইস্পিড ট্রেনসেট ব্যবহার করা হভে, যার গতি ঘন্টায় প্রায় ২৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
এই সিদ্ধান্তে ভারতের ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ এবং ‘আত্মনির্ভর ভারত’ উদ্যোগকে বড়
শক্তি প্রদান করবে। দেশীয়ভাবে বুলেট ট্রেন তৈরির ফলে ভারতীয় নির্মাতা সংস্থাগুলির জন্য নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি হবে, উন্নত রেল প্রযুক্তিতে দেশীয় দক্ষতা বাড়বে এবং ভবিষ্যতের হাই-স্পিড রেল প্রকল্পগুলির খরচ কমানোর সম্ভাবনাও তৈরি হবে। একইসঙ্গে ভারত শুধু প্রযুক্তির আমদানিকারক নয়, ভবিষ্যতে হাই-স্পিড রেল প্রযুক্তির অন্যতম নির্মাদা দেশ হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারে। সাথে আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহকারদের সাথে কাজ করা সুযোগ বাড়ার সাথে দেশের অবকাঠামোও উন্নত হবে।




