Article By – সুনন্দা সেন

দেশের সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির খবর, ভারতে সামগ্রিক খুচরা মুদ্রাস্ফীতি এখনও ২%-এরও নীচে রয়েছে। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ডিসেম্বর মাসে মূল্যস্ফীতিতে সামান্য উর্ধ্বগতি দেখা গেলেও তা রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI-এর নির্ধারিত রিলিফ পয়েন্টের মধ্যে রয়েছে। এর ফলে সামগ্রিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে বড় ধরনের কোনও চাপ তৈরি হয়নি। তবে এই স্বস্তির মধ্যেও একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগের জায়গা উঠে এসেছে। প্রোটিনজাত খাদ্যপণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে দ্রুত হারে বাড়ছে। ডিম, মাছ, মাংস ও দুধের মতো প্রোটিনসমৃদ্ধ খাদ্যদ্রব্যের মূল্যস্ফীতি সাম্প্রতিক মাসগুলিতে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যদ্রব্যের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকলেও প্রোটিন খাদ্যদ্রব্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ পরিবারের মাসিক বাজেটে চাপ সৃষ্টি করতে পারে। ডিসেম্বর মাসে খুচরা মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় কিছুটা বেড়ে প্রায় ১.৩%-এর ঘরে পৌঁছালেও তা এখনও টানা কয়েক মাস ধরে ২%-এর নীচে রয়েছে। শাকসবজি ও কিছু খাদ্যপণ্যের দামে স্থিতিশীলতা থাকায় সামগ্রিক ইনফ্লেশন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কিন্তু এই সঙ্গে প্রোটিনজাত পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহ সমস্যার কারণে এই বিভাগের দামের উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রোটিনের দাম বাড়া একটি কাঠামোগত সমস্যা হয়ে উঠতে পারে। আয় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন হচ্ছে এবং প্রোটিনের চাহিদা বাড়ছে। কিন্তু সেই তুলনায় উৎপাদন ও সরবরাহ পর্যাপ্ত না হওয়ায় দাম বাড়ছে। এর প্রভাব বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের উপর বেশি পড়তে পারে। সামগ্রিকভাবে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় রিজার্ভ ব্যাংকের কাছে মুদ্রানীতি নিয়ে কিছুটা স্বস্তির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে প্রোটিনজাত খাদ্যের দামে লাগাম টানতে সরকার ও নীতিনির্ধারকদের নজর বাড়ানো প্রয়োজন বলে মত বিশেষজ্ঞদের। সব মিলিয়ে, দেশের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি এখন নিয়ন্ত্রণে থাকলেও প্রোটিনজাত খাদ্যের দাম বৃদ্ধির প্রবণতা আগামী দিনে সাধারণ মানুষের খরচের উপর কতটা প্রভাব ফেলে, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।




