Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল কুইক কমার্স স্টার্টআপ জেপ্টো (Zepto) শেয়ার বাজারে আসার প্রস্তুতি শুরু করেছে। সংস্থাটি প্রায় ১.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের IPO আনার জন্য প্রয়োজনীয় নথি দাখিল করেছে। এই উদ্যোগ এমন এক সময়ে নেওয়া হয়েছে, যখন কুইক কমার্স সেক্টর নিয়ে বিনিয়োকারীদের মধ্যে যেমন আগ্রহ বাড়ছে। সাথে বাড়ছে ধীর গতি সম্পন্ন আশঙ্কা। মাত্র কয়েক মিনিটে গ্রসারি ও দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়ার মডেলের মাধ্যমে জেপ্টো খুব আপ সময়ের মধ্যেই বড় না হয়ে উঠেছে। মুম্বাই ও বেঙ্গালুরু থেকে শুরু করে দেশের একাধিক বড় শহরে সংস্থাটি তার পরিষেবা দ্রুত বিস্তার করেছে।
পাশাপাশি শক্তিশালী গ্রাহক বৃদ্ধি, উচ্চ অর্ডার ভলিউম এবং আগ্রাসী সম্প্রসারণের জোরেই জেপ্টো এবার শেয়ার বাজার থেকে বড় অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করতে চাইছে। তবে একই সময় কুইক কমার্স ব্যবসার দীর্ঘমেয়াদি লাভজনকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, কুইক ডেলিভারির প্রতিযোগিতায় সংস্থাগুলি বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করছে। কারণ বর্তমানে অভ্যন্তরীণ খরচের জন্য অনেক স্টার্টআপ এখনও পুরপুরি লাভে মুখ দেখেনি। আর তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে অতিরিক্ত মূল্যায়নের ঝুঁকি। তাই বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, জেপ্টোর IPO কুইক কমার্স ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি বড় উদাহরণ ও পরীক্ষা হতে চলেছে।
জেপ্টোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিও থেকে ওঠা অর্থ মূলত প্রযুক্তি উন্নয়ন, ডার্ক স্টোর নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণ, লজিস্টিকস শক্তিশালী করা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের জন্য ব্যবহার করা হবে। সংস্থাটি বিশ্বাস করছে, শহুরে গ্রাহকদের দ্রুত পরিষেবার চাহিদা ভবিষ্যতেও বাড়বে। সব মিলিয়ে, জেপ্টোর ১.২ বিলিয়ন ডলারের আইপিও একদিকে যেমন ভারতের স্টার্টআপ ইকোসিস্টেমের শক্তি তুলে ধরছে, অন্যদিকে তেমনই কুইক কমার্স সেক্টরে বুদবুদের আশঙ্কা ও বাস্তব ব্যবসায়িক টেকসই মডেল নিয়ে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিচ্ছে। এখন নজর থাকবে বিনিয়োগকারীদের প্রতিক্রিয়া এবং বাজার এই আইপিওকে কতটা বাস্তব দৃষ্টিতে বিচার করে।




