Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত নতুন রেসিপ্রোকাল শুল্ক (Reciprocal Tariffs) বা পারস্পরিক শুল্ক কার্যকর হলে ভারতের প্রায় ৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের রপ্তানি বড় ধরনের প্রতিযোগিতার মুখে পড়তে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতীয় পণ্যের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার আশঙ্কা তৈরী করেছে। মার্কিন প্রশাসনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যেসব দেশের বিরুদ্ধে ফোর্সড লেবার সংক্রান্ত উদ্বেগ রয়েছে, তাদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। আর এর ফলে ভারতের পাশাপাশি আরও কয়েকটি এশিয় দেশও প্রভাবিত হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান কিছু রপ্তানি খাতে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা পেতে পারে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পোশাক, টেক্সটাইল, লেদার প্রোডাক্ট, কিছু ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট এবং অন্যান্য উৎপাদনশীল খাত। যদি ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ হয়, তাহলে মার্কিন আমদানিকারকেরা তুলনামূলক কম শুল্কে দেশ থেকে পণ্য সংগ্রহে আগ্রহী হতে পারেন। এদিকে ভারত সরকার যুক্তরাষ্ট্রকে এই প্রস্তাব পুনর্বিবেচনার অনুরোধ জানিয়েছে।
সাথে আরও জানিয়েছে যে দেশের শ্রম আইন (Labour Laws) এবং নিয়ন্ত্রক কাঠামো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম ও মানদন্ড মেনেই পরিচালিত হয়। অর্থাৎ ভারত মনে করে যে শ্রমিকদের অধিকার, কর্মপরিবেশ এবং উৎপাদন ব্যবস্থার ক্ষেত্রে তারা বৈশ্বিক মান বা গ্লোবাল স্ট্যান্ডার্ড অনুসরণ করছে। তাই এই যুক্তিতে ভারতীয় পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করার যথেষ্ট কারণ নেই। আর সরকার চায়, নতুন শুল্ক আরোপের পরিবর্তে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা ও কূটনৈতিক সংলাপের মাধ্যমে বিষয়টি সমাধান করা যাবে।




