অবসর এমন একটি সময় যেখানে প্রতিটি মানুষ স্বাধীনভাবে, দুশ্চিন্তাহীনভাবে পৌঁছানোর স্বপ্ন দেখেন। এই সময়টা প্রত্যেকটি মানুষ আর্থিক কোনো চিন্তা ছাড়া থাকতে চায়। ঘুরে বেড়িয়ে, নিজেদের পছন্দের জিনিস করে, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে থাকতে চান। তবে অবসরকালীন সময়ে কোনো আর্থিক দুশ্চিন্তা ছাড়াই জীবন কাটানোর জন্য প্রয়োজন সঠিক রিটায়ারমেন্ট প্ল্যানিং এবং তার জন্য দরকার নিজের অর্থনৈতিক কিছু সুঅভ্যাস এবং নিয়ম গড়ে তোলা। সঠিক সময়ে যদি অবসরের জন্য বিনিয়োগ সঠিকভাবে করা যায়, তাহলে অবসর জীবন সুষ্ঠু যাপন করা সম্ভব।
সেইরকমই একটি বিনিয়োগের নিয়ম হল 30X। কী এই 30X rule? এই নিয়ম অনুযায়ী আপনি তখনই নিজের অবসরের কথা ভাববেন যখন আপনার সঞ্চয় আপনার বার্ষিক খরচের ৩০ গুণ হয়ে যাবে। চলুন বোঝা যাক 30X rule আসলে কী এবং কীভাবে কাজে আসবে।
30X বিনিয়োগ নিয়ম কী?
অবসরের জন্য একটি কার্যকর নিয়ম হল এই 30X investment rule। 30X rule বলছে আপনাকে অবসরের আগে নিজের বার্ষিক খরচের ৩০ গুণ অর্থ সঞ্চয় করতে হবে। কেন ৩০ গুণ? কারণ মনে করা হয় এই পরিমাণ অর্থ আপনার অবসর জীবনের জন্য যথেষ্ট হবে এবং এতে আপনার জীবদ্দশায় এত পরিমাণ সঞ্চয় ফুরিয়ে যাওয়ার ভয়ও থাকবে না। এককথায় এই পরিমাণ অর্থ দিয়ে নিশ্চিন্তে নিজের অবসর জীবন কাটাতে পারেন।
একটা উদাহরণের মাধ্যমে এই নিয়মটি বুঝব আমরা। ধরুন, আপনার প্রতি মাসের খরচ ৫০,০০০ টাকা তাহলে অ্যানুয়াল বা বার্ষিক খরচ হবে (৫০,০০০ * ১২) = ৬ লাখ টাকা। এবার এই ৬ লাখের ৩০ গুণ অর্থাৎ ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা যদি আপনি অবসরের আগেই সঞ্চয় করতে পারেন তাহলে এই পরিমাণ অর্থ অবসরের জন্য যথেষ্ট হবে। এখন জানতে হবে এই পরিমাণ অর্থ সঞ্চয়ের পর কীভাবে সেটি withdrawal করলে অবসরের পর স্বাধীন জীবনযাপন করা সম্ভব।
4% withdrawal
এই নিয়ম অনুযায়ী বার্ষিক 4% হারে যদি আপনার retirement corpus withdraw করা যায় তাহলে দীর্ঘ সময়ের জন্য আপনার অর্থ স্থায়ী হবে অর্থাৎ sustain করবে, মোটামুটি ২৫ – ৩০ বছর। কারণ 4% হারে বার্ষিক টাকা তোলার ফলে ধরে নেওয়া হয় যে আপনার বাকি investment গ্রো করতে থাকবে এবং মুদ্রাস্ফীতি তার উপর খুব একটা প্রভাব ফেলবে না এবং আপনার বিনিয়োগ সুরক্ষিত থাকবে।
আগের উদাহরণ অনুযায়ী যদি আপনার রিটায়ারমেন্ট corpus হয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা তাহলে 4%-এর হিসাবে বছরে আপনি ৭ লাখ ২০ হাজার টাকা নির্দ্বিধায় withdraw করতে পারবেন। এই টাকায় আপনার বার্ষিক খরচ ভালোভাবে চলে যাবে এবং আপনার সঞ্চয়েও এর বিশাল প্রভাব পড়বে না।
কীভাবে সঞ্চয় করবেন 30X অর্থ?
→ প্রথমেই বার্ষিক খরচ মোটামুটি কত হতে পারে তার একটি হিসেব করুন। এই খরচগুলির মধ্যে যাবতীয় খরচ যুক্ত থাকবে যেমন – গ্রসারি, ট্রান্সপোর্ট, স্বাস্থ্য, ইউটিলিটি, বাড়ি ইত্যাদি সব খরচ।
→ এরপর ভবিষ্যতের খরচের একটি হিসাব করুন। এবং অবসরের পরে ইনফ্লেশনের প্রভাবকেও গুরুত্ব দিতে হবে। সাধারণত অবসরের পর দৈনন্দিন খরচ কিছুটা কমে তবে স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত খরচ সে সময় বাড়তে পারে।
→ বর্তমানে আপনি কতটা সঞ্চয় ও বিনিয়োগ করছেন সেগুলোর মূল্যায়ন করুন। প্রতিটি সঞ্চয় ও বিনিয়োগের হিসাব রাখুন যেমন NPS, PPF, gold, stock, mutual fund ইত্যাদি, যাতে retirement corpus-এর সঙ্গে কতটা পার্থক্য আছে বোঝা যায়।
অবসরের জন্য সঞ্চয় করতে গিয়ে কী কী সমস্যা আসতে পারে?
- মুদ্রাস্ফীতি: ভারতে মানুষের ক্রয়ক্ষমতার উপর বেশ প্রভাব ফেলতে পারে মুদ্রাস্ফীতি। বর্তমানে 5%-6% রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির হার। সুতরাং যাতে retirement corpus-এ inflation বিশেষ প্রভাব না ফেলে সেটি দেখতে হবে এবং অবশ্যই আপনার বিনিয়োগগুলি যেন মুদ্রাস্ফীতিকে beat করতে পারে।
- চিকিৎসাজনিত খরচ: বর্তমানে ভারতে চিকিৎসাজনিত খরচ প্রতি বছর 14% হারে বাড়ছে। আপনাকে নিশ্চিত করতে হবে আপনার নিজের এবং পরিবারের জন্য যথেষ্ট health cover রয়েছে কিনা।
- মার্কেট ভোলাটিলিটি: Investment থেকে রিটার্ন কেমন আসবে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। ফলে বাজারের ওঠানামাকে মাথায় রেখে নিজের পোর্টফোলিও অবশ্যই diversify করুন।
- জীবনযাত্রার পরিবর্তন: অবসরের পরে পারিবারিক বা আর্থিক দায়িত্ব যেহেতু অনেকটাই কমে যায় তাই জীবনযাত্রার পরিবর্তনের ফলে খরচের পরিমাণ বাড়তে পারে। সেক্ষেত্রে অবশ্যই বাজেট প্রয়োজন।
অবসরের জন্য সঞ্চয় একটি ধারাবাহিক পদ্ধতি, একদিনে করা সম্ভব নয়। তাই দীর্ঘমেয়াদে বিনিয়োগের অভ্যাস গড়ে তুলুন। নিজের বিনিয়োগ সিদ্ধান্তগুলি সঠিকভাবে নিন যাতে অবসরের পরিকল্পনা যথাযথভাবে নেওয়া যায়।





