Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের মুদ্রা বাজার নিয়ে নতুন আশঙ্কা সামনে এসেছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, বিদেশী বিনিয়োগ বেরিয়ে যাওয়া এবং রাশিয়া ছাড়া অন্য উৎস থেকে তুলনামূলক বেশি দামে অপরিশোধিত তেল আমদানি বাড়লে ২০২৬ সালের শেষে ভারতীয় রুপি ডলার প্রতি প্রায় ৯৩ টাকায় পৌঁছতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সম্ভাব্য দুর্বলতার পেছনে দুটি বড় কারণ কাজ করছে। –
- প্রথমত, বিদেশী প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ বা FDI প্রবাহ কমে গেলে এবং আউটফ্লো বাড়লে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার উপর চাপ তৈরি হয়। এতে ডলারের চাহিদা বাড়ে এবং রুপি দুর্বল হয়।
- দ্বিতীয়ত, ভারত বিশ্বের অন্যতম বড় তেল আমদানিকারক দেশ। যদি রাশিয়ার তুলনায় বেশি দামে মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য দেশ থেকে তেল কিনতে হয়, সেক্ষেত্রে আমদানি বিল বেড়ে যায়। এতে ডলারের খরচ বাড়ে এবং চলতি হিসাবের ঘাটতি বৃদ্ধি পায়, যা শেষ পর্যন্ত রুপির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাজার পর্যবেক্ষকদের মতে, গত কয়েক বছরে ভারত তুলনামূলক সস্তা রাশিয়ান তেল আমদানি করে আমদানি খরচ অনেকটা নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছিল। কিন্তু আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি বদলালে বা সরবরাহ কমে গেলে সেই সুবিধা কমে যেতে পারে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যদি তেলের দাম উচুঁ থাকে এবং বিদেশী বিনিয়োগের প্রবাহ দুর্বল হয়, তাহলে ২০২৬ জুড়ে রুপি ধীরে ধীরে চাপের মধ্যে থাকতে পারে। তবে একই সঙ্গে তারা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন ভারতের শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হস্তক্ষেপ পরিস্থিতি অনেকটাই সামাল দিতে পারে।




