Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে আজ রুপোর দাম সামন্য বেড়ে প্রতি কেজি প্রায় ২,৪৭,৮৪০ টাকায় পৌঁছেছে। শতাংশের হিসেবে বৃদ্ধি মাত্র ০.১২% হলেও বাজার বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ছোট বৃদ্ধি ভবিষ্যতের বড় ট্রেন্ডের ইঙ্গিত হতে পারে। আন্তর্জাতিক বাজারের অবস্থান, ডলারের শক্তি দুর্বলতা এবং সুদের হার প্রত্যাশা মতো তিনটি বড় ফ্যাক্টর এখন রুপোর দামের ওপর প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে মার্কিন কেন্দ্রীয় ফেডারেল রিসার্ভের সুদনীতি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের নজর রয়েছে। যদি সুদ কমার সম্বাবনা বাড়ে, সেক্ষেত্রে সোনা ও রুপোর চাহিদা বাড়ে। কারণ কম সুদের পরিবেশে ধাতুর বিনিয়োগ ধরে রাখা তুলনামূলক বেশি লাভজনক হয়ে ওঠে।
ভারতের কমোডিটি বাজারেও আজ (১৯ ফেব্রুয়ারি) রুপোর দামে সামান্য উত্থান দেখা গেছে। দেশের প্রধান কমোডিটি ট্রেডিং প্ল্যাটফর্ম MCX (Multi Commodity Exchange of India)-তেও রুপোর বা সিলভার ফিউচার প্রাইসে ইতিবাচক ট্রেন্ড দেখা যাচ্ছে। ট্রেডাররা বলছেন, সোনা শক্তিশালী অবস্থানে থাকলে সাধারণত রুপোও এই পথে চলে, যদিও ভোলালিটি বেশি লক্ষ্য করা যায়। ডলারের পতনও রুপোর জন্য ইতিবাচক হয়ে ওঠে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলার দুর্বল হয়েছে যে কারণে সাধারণ ভাবেই দুই গুরুত্বপূর্ণ ধাতু সস্তা হয়েছে।
শুধু বিনিয়োগ নয়, শিল্পক্ষেত্রেও রুপোর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে সোলার প্যানেল, ইলেকট্রনিক্স, মেডিক্যাল যন্ত্র এবং বৈদ্যুতিক গাড়ির উৎপাদনে রুপোর চাহিদা বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, স্বল্পমেয়াদে রুপোর দাম ভোলাটাইল থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক অর্থনীতি ও শেয়ারবাজারে অনিশ্চয়তা থাকলে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে রুপোতে টাকা ঢুকতে পারে, এতে দাম বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে। তবে যদি ডলার হঠাৎ শক্তিশালী হয়ে ওঠে বা বিশ্ব অর্থনীতির গতি কমে যায়, তাহলে শিল্প-চাহিদা কমে দাম কিছুটা নেমেও আসতে পারে। বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন।




