Article By – সুনন্দা সেন

গোল্ড ভিত্তিক বিনিয়োগে আবারও বড়সড় সাফল্যের উদাহরণ এলো সামনে। সোভেরেইন গোল্ড বন্ড (SGB)-এ করা মাত্র ১ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ কয়েক বছরের মধ্যেই বেড়ে প্রায় ২ লক্ষ ৯০ হাজার টাকায় পৌঁছেছে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI-এর সাম্প্রতিক ঘোষিত রিডেম্পশন মূল্য অনুযায়ী এই চমকপ্রদ রিটার্নের বিষয়টি সামনে এসেছে। এই সাফল্য মূলত ২০২০-২১ সালের একটি সোভেরেইন গোল্ড বন্ড সিরিজের ক্ষেত্রে দেখা গেছে। যারা ওই সময় এই বন্ডে বিনিয়োগ করেছিলেন, তারা এখন পঞ্চম বছরের প্রিম্যাচিউর রিডেম্পশনের সুযোগ পাচ্ছেন। সাথে দেখাচ্ছে যে পরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগে সোভেরেইন গোল্ড বন্ড কতটা কার্যকর।
RBI জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ঠ সিরিজের প্রতি ইউনিট বন্ডের রিডেম্পশন মূল্য দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৩,৯০০ টাকার কাছাকাছি। এটি ইস্যুকালীন দামের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশী। সেই সময় প্রতি গ্রাম সোনার দাম ছিল আনুমানিক ৪,৮০০ টাকা। এরপর আন্তর্জাতিক বাজারে ভূ-রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, মুদ্রাস্ফীতি এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলির সোনার চাহিদা বাড়ার ফলে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের দাম, কারণ এই বন্ডের মূল্য সম্পূর্ণভাবে বাজারের সোনার দামের সঙ্গে যুক্ত।
শুধু মূলধনী লাভই নয়, সোভেরেইন গোল্ড বন্ডে বিনিয়োগকারীরা প্রতি বছর ২.০% হারে সুদও পেয়েছেন। এই সুদ ছয় মাস অন্তর বিনিয়োগকারীদের অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে এটি সাধারণ গোল্ডের বিনিয়োগ বা অনেক ক্ষেত্রে ফিক্সড ডিপোজিটের তুলনায় বেশি লাভজনক হয়ে উঠেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের একটি বড় সুবিধা হল এতে ফিজিক্যাল গোল্ড রাখার ঝুঁকি নেই। চুরি, সংরক্ষণ খরচ কিংবা মেকিং চার্জের মতো সমস্যাও থাকে না। পাশাপাশি মেয়াদ শেষ রিডেম্পশনের ক্ষেত্রে মূলধনে লাভের উপর কর ছাড় পাওয়া যায়, যা দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় আকর্ষণ।




