Article By – সুনন্দা সেন

ভারতীয় বন্ড বাজারে সাম্প্রতিক সময়ে বড়সড় চাপ দেখা যাচ্ছে। রুপির ধারাবাহিক দুর্বলতার ফলে রিটার্ন কমে যাওয়ায় বিদেশি বিনিয়োগকারীরা রেকর্ড পরিমাণ ভারতীয় বন্ড বিক্রি করেছেন। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এটি শুধু স্বল্পমেয়াদি প্রতিক্রিয়া নয়, বরং বৈশ্বিক আর্থিক পরিস্থিতির প্রতিফলন। ২০২৫ সালের শেষ ভাগে ডলারের তুলনায় রুপির উল্লেখযোগ্য অবমূল্যায়ন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় ধাক্কা হয়ে আসে। যদিও ভারতীয় সরকারি ও কর্পোরেট বন্ডে সুদের হার তুলনামূলকভাবে আকর্ষণীয় ছিল, কিন্তু কারেন্সি লোকসানের কারণে সেই সুদের সুবিধা কার্যত মুছে যায়।
ডলার বা অন্য বৈদেশিক মুদ্রায় হিসাব করলে অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের প্রকৃত রিটার্ন নেগেটিভ হয়ে পড়ে। এই অবস্থায় বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগকারীরা ভারতীয় বন্ড থেকে অর্থ তুলে নিতে শুরু করেন। যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার দীর্ঘ সময় উচ্চ স্তরে থাকার পাশাপাশি ডলার শক্তিশালী থাকায় সেখানে বিনিয়োগ তাদের কাছে তুলনামূলকভাবে নিরাপদ ও লাভজনক মনে হয়েছে। এর ফলে ভারতসহ একাধিক উদীয়মান বাজারের বন্ড বাজার থেকে অর্থপ্রবাহ কমে যায়। রুপির দুর্বলতা এই প্রবণতাকে আরও তীব্র করেছে। ডলার কেনার চাহিদা বাড়ায় মুদ্রাবাজারে চাপ বেড়েছে এবং বন্ড বিক্রির ফলে বাজারে সুদের হারের ওপরও ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে সরকারের ঋণগ্রহণের খরচও কিছুটা বাড়তে পারে। রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া বা RBI বাজার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। প্রয়োজনে তারা বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে হস্তক্ষেপ করে অতিরিক্ত অস্থিরতা কমানোর চেষ্টা করছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, আরবিআই মূলত হঠাৎ বড় ওঠানামা রুখতেই সক্রিয়, বাজারের স্বাভাবিক গতিপথে তারা খুব বেশি বাধা দিচ্ছে না। আগামী দিনের দিকে তাকিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, রুপির স্থিতিশীলতাই বিদেশি বিনিয়োগ ফেরানোর মূল চাবিকাঠি। যদি বৈশ্বিক সুদের হার কমার ইঙ্গিত মেলে, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকির মানসিকতা বাড়ে এবং রুপি কিছুটা শক্তিশালী হয়, তাহলে ভারতীয় বন্ড বাজারে আবার বিদেশি অর্থপ্রবাহ ফিরতে পারে।




