Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে (তৃতীয় ত্রৈমাসিক) তুলা আমদানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। যার মূল কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে সরকারের শুল্কমুক্ত তুলা আমদানি নীতি। সরকার ও ইন্ডাস্ট্রিয়ার সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ সালের অক্টোবর-ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ভারতের তুলা আমদানি তার আগের বছর (২০২৪-২৫ সাল) এর একই সময়ের তুলনায় বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। বস্ত্র ও সুতা শিল্পের কাঁচামালের ঘাটতি মেটাতে উল্লেখযোগ্য ভাবে এই আমদানির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে। আবার বিশেষজ্ঞদের মতে, চলতি অর্থবছরে দেশে তুলা উৎপাদন প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কমেছে। এর সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলার দাম তুলনামূলকভাবে কম থাকায় স্পিনিং মিল ও টেক্সটাইল সংস্থাগুলি বিদেশ থেকে তুলা আমদানি বাড়ানোর কথা ভাবছে।
এছাড়া সরকার আগেই তুলা আমদানির ওপর বিদ্যমান শুল্ক সাময়িকভাবে প্রত্যাহার করায় আমদানি আরও আকর্ষনীয় হয়ে ওঠে। এর ফলে মিলগুলির কাঁচামাল জোগান স্বাভাবিক রাখতে সুবিধা হয়েছে এবং উৎপাদন ব্যয় কিছুটা কমানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। ডিসেম্বর ত্রৈমাসিকে আমদানি বৃদ্ধির ফলে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে তুলার দামের ওপর চাপ কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। এদিকে গত কয়েক মাসে আবহাওয়া সমস্যা এবং কিছু রাজ্যে ফলন হহরাসের কারণে তুলার দাম বেড়ে গিয়েছিল। যা আবার বস্ত্র শিল্প বা টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
শিল্প মহলের ধারণা, আমদানি বৃদ্ধি হওয়ায় টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রির আংশিকভাবে লাঘব (কম) হয়েছে। তবে এই প্রবণতা নিয়ে কৃষক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। তুলা চাষিদের একটি অংশের আশঙ্কা এবং অতিরিক্ত আমদানির ফলে দেশীয় তুলার দাম কমে যেতে পারে। যা তাঁদের আয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে শিল্প সংগঠনগুলির দাবি, পর্যাপ্ত কাঁচামাল না থাকলে রপ্তানি ও উৎপাদন দুইই ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই স্বল্পমেয়াদে আমদানি বাড়ানো জরুরি। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুল্কমুক্ত আমদানি নীতি আপাতত বস্ত্র ও পোশাক শিল্পকে স্বস্তি দিলেও, দীর্ঘমেয়াদে সরকারকে উৎপাদন ও কৃষক স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। আগামী ত্রৈমাসিকগুলিতে আমদানি নীতিতে কোনও পরিবর্তন আনা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর বাজার ও শিল্প মহলের।




