অর্থনৈতিক অগ্রগতি এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য একাধিক পরিকল্পনা শুরু করেছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। তার মধ্যে একটি হল ২০১৫- এর মুদ্রা প্রকল্প। যা দেশের নতুন এবং ছোট ব্যবসায়ী ও উদ্দ্যোগপতিদের জন্য ব্যাংক থেকে সহজে ঋণের বন্দোবস্ত করে। আর ব্যবসায়ীরা ৫০ হাজার থেকে ১০ লাখ পর্যন্ত টাকা কম সুদে ধার হিসাবে পেয়ে থাকেন। সেই ঋণ গ্রহণের তালিকায় অতীতে প্রথম সারিতে পশ্চিমবঙ্গের (West Bengal) নাম থাকলেও, বর্তমানে কেন্দ্র সরকারের প্রকাশিত তথ্য বলছে অন্য কথা।
যা দেখে বোঝা যাচ্ছে যে রাজ্যে স্বনির্ভর হওয়ার জন্য মুদ্রা প্রকল্পের চাহিদায় ভাটা পড়েছে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, ২০১৯-২০ সালে মুদ্রা ঋণ নেওয়ার ক্ষেত্রে চার নম্বরে ছিল বাংলা, তারপরের দুই বছরে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal) যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তারপর প্রথম স্থান অর্জন করে। কোভিডের সময় প্রয়োজন পড়লেও বা স্বনির্ভরতা বাড়তে দেখা গেলেও বর্তমানে মুদ্রাধার নেওয়ার ক্ষেত্রে বিহার ও উত্তরপ্রদেশের মতো রাজ্যের থেকে পিছিয়ে গেছে রাজ্য। ২০২২-২৩ এবং ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিহার, তামিলনাড়ু, কর্ণাটক এবং উত্তরপ্রদেশের পর পঞ্চম স্থানে রয়েছে পশ্চিমবঙ্গ (West Bengal)।
মূলত বড় শিল্পের অনুসারী শিল্প হিসেবে যে সমস্ত ক্ষুদ্র কারখানা তৈরি হয়, তাদের মালিকরা এই প্রকল্প থেকে ঋণ নিয়ে থাকেন। এই প্রসঙ্গে নিজের মতামত জানানোর সময় অর্থনীতিবিদ সুমন মুখোপাধ্যায় বলেছেন, মূলত রাজ্য থেকে বড় শিল্প চলে যাচ্ছে বলে এমন অবস্থা। তাছাড়া মানুষের মনে শিল্প নিয়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। যা অবস্থায় ঋণ পরিশোধেও বাধা সৃষ্টি করছে। আবার অন্য দিকে দেখলে রাজ্যের মুদ্রা ঋণের চাহিদা কমে যাওয়ার আর একটি কারণ হিসাবে প্রচার এবং সচেতনার অভাবকেও দায়ী করেছেন।
এছাড়াও শিল্প বিশেষজ্ঞ সুপর্ণ দাবি করেছেন, বাংলার মানুষ ঝুঁকি নিতে চাইছেন না। যে কারণে স্বনির্ভর হওয়ার জন্যে ঋণ গ্রহণের থেকেও দূরে রয়েছে। পাশাপাশি যেহেতু ঋণ নেওয়া অর্থের পরিশোধের পরিসংখ্যান কম, তাই হয়তো এ রাজ্যে মানুষ তাই দেখেই হয়তো পুঁজি বণ্টনে অনিচ্ছুক। আর এই প্রকল্পে গড়ে প্রায় ৬৫-৭০% ধারই ফেরত আসছে না বাংলা থেকে তাই জন্যেও ঋণদাতারা সতর্ক হয়ে যাচ্ছেন। হয় ঋণ দিতে চাইছেন না বা দিতে দেরি করছে।
Article By – সুনন্দা সেন






