Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের হোলসেল প্রাইস ইনডেক্স বা WPI ডিসেম্বরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ০.৮৩%-এ, যা গত আট মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। এটি নভেম্বর, ২০২৫-এর -০.৩২% পতনের পর একটি গুরুত্বপূর্ণ উর্ধ্বগতি। এই বৃদ্ধি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে পাইকারি বাজারে দাম ধীরে ধীরে বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে খুচরা মূল্যস্ফীতির উপরও প্রভাব ফেলতে পারে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, হোলসসেল মূল্যস্ফীতির এই বৃদ্ধির পেছনে প্রধান কারণ হল উৎপাদনজাত পণ্য ও খাদ্যপণ্যের বাড়তে থাকা দাম। বিশেষ করে খাদ্য প্রক্রিয়াজাত সামগ্রী, তেল ও বস্ত্রের দাম কিছুটা বেড়ে যাওয়া লক্ষ্য করা গেছে। কিছু ক্ষেত্রে কাঁচামালের দাম বাড়াও উৎপাদক পর্যায়ে মূল্য চাপ বাড়িয়েছে।
ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টরে দাম বাড়ার ফলে পাইকারী বাজারে মূল্যের উর্ধ্বগতি ঘটেছে। তবে এনার্জি ও বিদ্যুৎ খাতে দাম তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকায় সামগ্রিক সূচক এখনও খুব বেশি নয়। অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, হোলসেল পর্যায়ে দাম বাড়া ভবিষ্যতে CPI বা খুচরা মূল্যস্ফীতিতে ধাপে ধাপে প্রতিফলিত হতে পারে। এই পরিস্থিতি বিশেষ করে শিল্পোদ্যোক্তা এবং পাইকারী ব্যবসায়ীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। কারণ উৎপাদন খরচ বাড়লে তারা মার্জিন ধরে রাখতে পণ্যের দাম বাড়াতে পারে। তবে এই পর্যন্ত বৃদ্ধি খুবই নিয়ন্ত্রিত এবং গণমাধ্যম ও RBI-এর জন্য উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিপুল রিটার্নের প্রধান কারণ হল গত কয়েক বছরে সোনার দাম ধারাবাহিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকা। পাশাপাশি SGB-র ক্ষেত্রে স্টোরেজ খরচ, মেকিং চার্জ বা চুরির ঝুঁকি না থাকায় এটি ফিজিক্যাল গোল্ডের তুলনায় অনেক বেশি সুবিধাজনক বিনিয়োগ মাধ্যম। উল্লেখ্যভাবে সোভেরেইন গোল্ড বন্ডের মেয়াদ সাধারণত ৮ বছর, তবে ৫ বছর পূর্ণ হওয়ার পর নির্দিষ্ট তারিখে প্রিম্যাচিউর রিডেম্পশনের সুযোগ দেওয়া হয়। মেয়াদ শেষে রিডেম্পশনের ক্ষেত্রে মূলধনী লাভের উপর কর ছাড়ও পাওয়া যায়, যা একে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগকারীদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে।




