Article By – সুনন্দা সেন

সোনার দাম সব রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। কিছু বছর আগে পর্যন্ত কেউ ভাবতেই পারেনি যে সোনার দাম ১,০০,০০০ টাকারও উপরে উঠে আসবে। শেষ নয় মাস বা একটু বেশি সময়ের মধ্যে সোনার দাম প্রায় ৬০% বেড়ে, প্রতি ১০ গ্রাম ৭৮,০০০ টাকা থেকে শুরু করে ১২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। প্রকৃতপক্ষে ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে সোনার দাম প্রায় ৭০,০০০ স্তর থেকে বেড়েছে। ১৪ মাসে বা কিছু বেশি সময়ের মধ্যে এটি ৭৮% এরও বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি আমরা আরও একটু পিছনে যাই, তাহলে দেখা যাবে যে ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে দাম ৬৪,০০০ স্তর থেকে তীব্রভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এটি ২০ মাসে ৯৫% বৃদ্ধি পেয়েছে।
মার্কিন রেট কাট এবং বিনিয়োগকারীদের প্রোফিট বুকিংয়ের কারণে বর্তমানে সোনার দাম কমলেও, সর্বোপরি এই মুহূর্তে দামের ঊর্ধ্বমুখী গতি খুবই শক্তিশালী। আর এই বৃদ্ধি একই কারণে ২০২৬ পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানা যাচ্ছে। সোনার দাম সম্পর্কে সকল ধরণের ভবিষ্যদ্বাণী এবং পূর্বাভাস ইতিমধ্যেই অনেক তথাকথিত ‘বিশেষজ্ঞ’ দ্বারা করা হয়েছে। অবশ্য এই সম্পাদকীয়তে তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। কারণ সোনার ভবিষ্যৎ দাম নির্ভর করবে বর্তমানে দাম বৃদ্ধির মূল কারণগুলির স্থায়িত্বের উপর। আর সেই কারণগুলি হলো:
- সোনা সবসময়ই একটি নিরাপদ সম্পদ। কঠিন সময়ে অথবা আর্থিক বাজারে অনিশ্চয়তা থাকলে মানুষ সোনার দিকে অগ্রসর হয়। বর্তমানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্ক নীতির কারণে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। আর এমন সময় সকলের প্রথম পছন্দ হয়ে উঠছে গোল্ড বা সোনা। আর চাহিদা বাড়ার সাথে দামও বৃদ্ধি পাবে।
- মধ্যপ্রাচ্য আর্থিক বাজারের জন্য এতটাই উত্তপ্ত যে তা সামলাতে পারছে না। আর্থিক বাজারগুলি চাইছে না যুদ্ধ। তবে কাতারের উপর ইসরায়েলের আক্রমণের পরিণতি উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। এমনকি ইউক্রেও যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়িত হয়নি। রাজনৈতিক অস্থিরতার সময়ে সোনাকে সর্বদা সম্পদ সংরক্ষণের একটি উপায় হিসেবে দেখা হয়ে আসছে। এবারও তেমনটাই ঘটছে।
আর তারপর আছে পুরনো জল্পনা। অনেক সময় কোনও সম্পদের দাম বেড়ে যায় কারণ এটির দাম এবং চাহিদা বাড়ার স্পেকুলেশন থাকে। আর্থিক ভাষায়, একে বলা হয় গতির উপর নজর রাখা। এই স্বল্পমেয়াদী ব্যবসায়ীদের ‘অতিরিক্ত’ ক্রয় মূল্যের ঊর্ধ্বমুখী গতিতে যোগ করে। তেমনটাই ঘটছে সোনার ক্ষেত্রেও।




