Article By – আস্তিক ঘোষ

আসন্ন জল সংকট মোকাবেলায় ব্যবস্থা নিচ্ছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন। জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশে আগের চেয়ে দ্রুত হ্রাস পাচ্ছে ভূগর্ভস্থ জল। নতুন গবেষণা অনুসারে, কিছু জায়গায় প্রতি বছর তিন মিটারের মতো হ্রাস পাচ্ছে এই ভূগর্ভস্থ জল। 2040 সালের মধ্যে এর ব্যবহার প্রতি বছর 55 বিলিয়ন ঘনমিটারে পৌঁছানোর জন্য লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে। 2020 সাল থেকে সেই মাত্রা থেকে 37 শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ওয়াটারএইডের রেসিলিয়েন্ট ওয়াটার অ্যাক্সিলারেটরের পরিচালক জোনাথন ফার জানান, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও, বাংলাদেশের বিশাল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশে অত্যন্ত দক্ষ, উচ্চ শিক্ষিত মানুষজন রয়েছে। কিন্তু দেশের প্রবৃদ্ধিতে অত্যধিক পরিমাণ জলের চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে ধান চাষ এবং টেক্সটাইলের মতো শিল্পের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে।”
বাংলাদেশের ক্ষেত্রে জলবায়ু পরিবর্তন বিশাল এক ঝুঁকি। বাংলাদেশ গঙ্গা নদী সহ উপনদীগুলির বন্যা, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং মৌসুমী ঘূর্ণিঝড় থেকে লবণাক্ত জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে গ্লোবাল ওয়ার্মিং এর কারণে। এখনও পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রায় অর্ধেক জনসংখ্যার কাছে বিশুদ্ধ জলের পৌঁছানোর ক্ষেত্রেই যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
বাংলাদেশের নবগঠিত সরকারের জল ও পরিবেশ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান স্বীকার করেছেন, মরুকরণ রোধে বাংলাদেশকে জলের উত্তোলন এবং জল অপচয় কমাতে হবে। বাংলাদেশের ভূগর্ভস্থ জল 70 শতাংশেরও বেশি সেচের জন্য ব্যবহৃত হয়। শিল্প চাহিদার ক্ষেত্রে 98 শতাংশেরও বেশি ভূগর্ভস্থ জল ব্যবহার করা হয়। নদী পরিষ্কার করার জন্য ইতিমধ্যেই পরিকল্পনা শুরু করেছেন সে দেশের কর্মকর্তারা। এছাড়াও ভূগর্ভস্থ জল উত্তোলন নিয়ন্ত্রণের জন্য আইনত বাধ্যতামূলক কিছু নিয়মও চালু করা হবে, বলে খবর।




