Article By – সুনন্দা সেন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (US) ভারত থেকে আমদানি করা কিছু সোলার পণ্যের ওপর সর্বোচ্চ প্রায় ১২৬% পর্যন্ত প্রাথমিক শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগ করা হয়েছে যে ভারতীয় নির্মাতারা সরকারি ভর্তুকি পেয়ে তুলনামূলক কম দামে সোলার ইনস্ট্রুমেন্টস রপ্তানি করছে। যা স্থানীয় মার্কিন শিল্পের জন্য প্রতিযোগিতায় অসুবিধা তৈরি করছে। মার্কিন বাণিজ্য কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক তদন্তে বলা হয়েছে, ভারতীয় নির্মাতারা নাকি সরকারি ভর্তুকির সুবিধা নিয়ে কম দামে পণ্য রপ্তানি করছে, ফলে মার্কিন দেশীয় শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আর এই তদন্ত পরিচালনা করছে ‘ইউনাইটেড স্টেটস ডিপার্টমেন্ট অফ কমার্স’।
আর তাদের ঘোষিত হারগুলো এখনো চূড়ান্ত নয়, তদন্ত শেষ হলে শুল্কের পরিমাণ কমাতে বা বাড়তে পারে। মার্কিন নিয়ম অনুযায়ী, যদি কোনো দেশ সরকারি ভর্তুকির কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে অস্বাভাবিক কম দামে পণ্য বিক্রি করে, তাহলে সেই ক্ষতি সামাল দিতে কাউন্টারভেলিং ডিউটি আরোপ করা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নিজেদের সোলার উৎপাদকদের সুরক্ষা দেওয়া এবং দেশীয উৎপাদনকে শক্তিশালী করা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে, যাতে আমদানির ওপর নির্ভরতা কমানো যায়।
এই সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কারণ, দেশটি দ্রুত বিশ্বের বড় সোলার উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। ভারতের বহু কোম্পানি আন্তর্জাতিক বাজারে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছিল। কিন্তু এত উচ্চশুল্ক কার্যকর হলে মার্কিন বাজারে ভারতীয় সোলার পণ্য অনেক বেশি দামী হয়ে যাবে। ফলে নতুন অর্ডার কমে যেতে পারে এবং চলমান ব্যবসায়ও চাপে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্প বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতীয় কোম্পানিগুলো এখন বিকল্প কৌশল নিতে পারে। কেউ হয়তো ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য বা আফ্রিকার মতো অন্য বাজারে রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করবে। আবার কিছু কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রে স্থানীয় কারখানা স্থাপন বা মার্কিন সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগের পথও বিবেচনা করতে পারে, যাতে উচ্চ আমদানি শুল্ক এড়ানো যায়। এই পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি বাণিজ্যে নতুন উত্তেজনা তৈরি করতে পারে। ভারত-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ক সামগ্রিকভাবে কৌশলগতভাবে শক্তিশালী হলেও, বাণিজ্য সংক্রান্ত বিষয়গুলোতে মাঝে মাঝে মতভেদ দেখা যায়। ভবিষ্যতে কূটনৈতিক আলোচনা বা বাণিজ্য সংলাপের মাধ্যমে এই ইস্যুতে সমাধানের চেষ্টা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।




