Article By – সুনন্দা সেন

ভারত একের পর এক বিলিয়ন-ডলারের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি বা ফ্রি ট্রেড অ্যাগ্রিমেন্ট (FTA) সম্পন্ন করেছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, চুক্তি সই করাই শেষ নয়, বরং এখনই শুরু আসল পরীক্ষা। ভারত গত কয়েক বছরে যুক্তরাজ্য, ইউরোপীয় বাণিজ্য অংশীদার এবং আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে বড় বাণিজ্য চুক্তি করেছে। এই চুক্তিগুলির লক্ষ্য হল ভারতীয় পণ্যের জন্য বিদেশি বাজারে আরও সহজ প্রবেশাধিকার তৈরি করা, শুল্ক কমানো এবং রপ্তানি বাড়ানো। সরকার আশা করছে, এর ফলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান এবং বিদেশি বিনিয়োগে বড় গতি আসবে।
তবে অর্থনীতিবিদদের মতে, আসল চ্যালেঞ্জ এখন শুরু। কারণ কাগজে-কলমে চুক্তি থাকলেই তার সুফল পাওয়া যায় না। ভারতীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য আরও প্রস্তুত হতে হবে। উৎপাদন খরচ কমানো, বিশ্বমানের গুণগত মান বজায় রাখা, দ্রুত বন্দর ও কাস্টমস পরিষেবা, উন্নত লজিস্টিকস এবং দক্ষ কর্মীর মতো ক্ষেত্রেই আরও বড় পরিবর্তন আনতে হবে। বিশেষ করে টেক্সটাইল, অটোমোবাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস, ইলেকট্রনিক্স, কৃষিপণ্য এবং পরিষেবা খাত এই চুক্তি থেকে বড় সুবিধা পেতে পারে। কিন্তু যদি উৎপাদন সময়মতো না হয়, সেক্ষেত্রে বিদেশি ক্রেতারা অন্য দেশের দিকে ঝুঁকতে পারেন।
অন্যদিকে, এই চুক্তিগুলি ভারতীয় বাজারেও বিদেশি পণ্যের প্রবেশ সহজ করবে। ফলে দেশীয় সংস্থাগুলিকে আরও প্রতিযোগিতামূলক হতে হবে। তাই শুধু রপ্তানি বাড়ানো নয়, দেশীয় শিল্পকে শক্তিশালী করাও এখন সমান গুরুত্বপূর্ণ। আর বিশেষজ্ঞদের মতে, আগামী কয়েক বছরই নির্ধারণ করবে ভারত এই বিলিয়ন-ডলারের বাণিজ্য চুক্তিগুলিকে কতটা বাস্তব অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে রূপ দিতে পারে। অর্থাৎ, বড় বড় ট্রেড ডিল সম্পন্ন হয়েছে ঠিকই, কিন্তু এখন নজর থাকবে বাস্তবায়নের ওপর। কারণ সফলতা নির্ভর করবে চুক্তি স্বাক্ষরের ওপর নয়, বরং সেই সুযোগকে কত দ্রুত এবং দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগানো যায়, তার ওপরই।




