Article By – সুনন্দা সেন

রিজার্ভ ব্যাংকের পদক্ষেপের পরও ভারতীয় মুদ্রার উপর চাপ কমছে না। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে ব্যারেল-পিছু ৯১ ডলারের উপরে উঠেছে। একই সঙ্গে ৩০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি বন্ডের ইয়িল্ড দুই দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে। এই দুই কারণেই রুপির দুর্বলতার আশঙ্কা আরও বেড়েছে। ১৮ আগস্ট, রুপি ডলারের তুলনায় প্রায় ৯৫.৬৮ স্তরে নেমে যায়—যা প্রায় তিন সপ্তাহের মধ্যে দুর্বলতম অবস্থান।
আর এই চাপের অন্যতম বড় কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ও মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড। বিদেশি মুদ্রা আমানতের বিনিময় সুবিধার সময়সীমা এক মাস এগিয়ে ৩১ আগস্ট করেছে। আর এই সিদ্ধান্ত বাজারকে অবাক করে এবং রুপি ৯৫.৫০-এর নিচে চলে যায়। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। ফলে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ৯১ ডলারের উপরে উঠেছে। ভারতের মতো তেল-আমদানিনির্ভর দেশের ক্ষেত্রে বেশি তেলের দাম সরাসরি আমদানি খরচ ও ডলারের চাহিদা বাড়ায়, যা রুপির উপর আরও চাপ তৈরি করে।
এদিকে মার্কিন বন্ডের ইয়িল্ড বাড়ায় বিনিয়োগকারীদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও কমছে। ৩০ বছরের মার্কিন ট্রেজারি ইয়িল্ড প্রায় ৫.৩২%-এ পৌঁছেছে, যা প্রায় দুই দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরগুলির একটি। ১০ বছরের ইয়িল্ডও ৪.৭২%- এর কাছাকাছি উঠেছে। উচ্চ মার্কিন ইয়িল্ড সাধারণত বিনিয়োগকারীদের মার্কিন সম্পদে বেশি আকৃষ্ট করে এবং এমার্জিং মার্কেট (emerging markets) থেকে অর্থ বেরিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ায়। এর ফলে রুপির মতো এশীয় মুদ্রাগুলির উপর চাপ আরও বাড়তে পারে।




