Article By – সুনন্দা সেন

সিগ্ন্যুমে গ্লোবাল অ্যাডভাইজারস (Signum Global Advisors)-এর চেয়ারম্যান চার্লস মায়ার্স বলেছেন, বছরের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে। তাঁর মতে, এখন বাজারে যে ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, সরবরাহ ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং জল্পনা চলছে; তা কিছুটা কমে এলে তেলের দামে নীচের দিকে সংশোধন দেখা যেতে পারে। আর সেটাই ভারতীয় অর্থনীতি, আমদানিকারক সংস্থা এবং সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কিছুটা আশার খবর হয়ে উঠতে পারে।
মায়ার্সের বক্তব্যের মূল তাৎপর্য হলো, বর্তমানে তেলের দামের ওপর যে চাপ দেখা যাচ্ছে তার অনেকটাই তাৎক্ষনিক উদ্বেগ ও সংঘাত কেন্দ্রিক প্রতিক্রিয়ার ফল। কিন্তু বছরের দ্বিতীয়ার্ধে যদি সরবরাহ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হয়, বড় উৎপাদন দেশগুলি উৎপাদন ধরে রাখে এবং বাজারে আতঙ্ক কমে তাহলে দাম উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পেতে পারে বা কম হতে পারে। আর এই মন্তব্য ভারতসহ তেল আমদানিনির্ভর দেশগুলির জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে ভারতের আমদানি বিল কমতে পারে, জ্বালানি খরচে চাপ কিছুটা কমতে পারে এবং মুদ্রাস্ফীতির ওপরও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষ করে ডিজেল, পেট্রোল, পরিবহন খরচ এবং শিল্প উৎপাদন সংক্রান্ত ব্যয়ের সঙ্গে তেলের দামের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এটাও মনে করিয়ে দিচ্ছেন, তেলের বাজারে পূর্বাভাস সবসময়ই ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি, ওপেক (OPEC+) প্লাসের উৎপাদন নীতি, মার্কিন কৌশলগত অবস্থান, বৈশ্বিক চাহিদা এবং ডলারের পাওয়ার সবকিছুই একসঙ্গে দামের গতিপথ নির্ধারণ করে। ফলে বছরের শেষে দাম কমার সম্ভাবনা থাকলেও, মিড ইয়ারে তেলের দামে ওঠানামা চলতেই পারে।




