Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও আমেরিকার মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও বাড়লো। US-এর কোয়ার্টজ সারফেস পণ্যে সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক সহ ট্যারিফ কোটা আরোপের বিরুদ্ধে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা বা WTO (World Trade Organization)-তে আমেরিকার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক আলোচনার আবেদন করছে ভারত। নতুন এই মার্কিন ব্যবস্থা ১৫ আগস্ট থেকে কার্যকর হয়েছে এবং চার বছর বহাল থাকবে। নির্দিষ্ট আমদানি কোটার সীমা ছাড়িয়ে গেলে কোয়ার্টজ সারফেস প্রোডাক্টের ওপর সর্বোচ্চ ৫০% শুল্ক আরোপিত হবে। যার ফলে আমেরিকার বাজারে ভারতীয় রপ্তানিকারকদের জন্য পণ্যের দাম বেড়ে প্রতিযোগিতায় চাপ তৈরি হতে পারে।
ভারত জানিয়েছে, এই বিষয়ে তার ‘সাবস্টেনসিয়াল ইন্টারেস্ট’ রয়েছে। কারণ ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভারত আমেরিকায় প্রায় ৩৮০ মিলিয়ন ডলারের কোয়ার্টজ সারফেস পণ্য রপ্তানি রয়েছে। আর যুক্তরাষ্ট্রের তালিকায় ভারত ছাড়াও ভিয়েতনাম, স্পেন ও থাইল্যান্ড গুরুত্বপূর্ণ রপ্তানিকারক হিসেবে রয়েছে। তাই পদক্ষেপ নেওয়ার আগে US-এর বাণিজ্য কমিশন বলেছিল, কোয়ার্টজ সারফেস পণ্যের আমদানি এতটাই বেড়েছে যে তা মার্কিন দেশীয় ইন্ডাস্ট্রির জন্য গুরুতর ক্ষতির কারণ হযে উঠেছে। আর সেই যুক্তির ভিত্তিতেই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ৩১ জুলাই এই ট্যারিফ রেট কোটা চালুর ঘোষণা করেন।
তবে ভারতের আপত্তির মূল জায়গা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সেফগার্ড রুলস। ভারতের বক্তব্য, কিছু উন্নয়নশীল দেশ থেকে আমদানির অংশ নির্দিষ্ট সীমার নিচে থাকলে সেই দেশগুলিকে সেফগার্ড মেজার থেকে ছাড় দেওয়ার WTO বিধান রয়েছে। তাই নতুন মার্কিন ব্যবস্থাটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়মের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ কি না, সেটিই আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হতে চলেছে। WTO-তে কনসাল্ট সাধারণত বিরোধ মেটানোর প্রথম ধাপ। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান না হলে পরবর্তী পর্যায়ে ভারত WTO- এর ডিসপুট প্রক্রিয়ায় আরও এগোতে পারে। কোয়ার্টজ সারফেস নিয়ে এই পদক্ষেপটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভারতের WTO-ভিত্তিক আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে উঠলো।




