Article By – আস্তিক ঘোষ

অন্য দেশে বিনিয়োগ করে নিজেদের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযুক্ত চিন। কিন্তু বর্তমানে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হল, বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ চিনে কি সবকিছু ঠিকঠাক চলছে? চিনের অর্থনীতির শিরদাঁড়া কি ভেঙে যাচ্ছে? চিনের সাম্প্রতিক গৃহীত সিদ্ধান্তগুলির দিকে লক্ষ্য করলে যে কারও এমনটাই মনে হতে বাধ্য। বিদেশি বিনিয়োগের জন্য বাজারের দরজা পুরোপুরি খুলে দিতে চলেছে চিন। এই সময় পাকিস্তান, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ইত্যাদি দেশে প্রচুর বিনিয়োগ করছে চিন। এবার বিনিয়োগের জন্য অন্য দেশের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে চিনকে।
বর্তমানে খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে চিনের অর্থনীতি। একদিকে অনেক কোম্পানি চিনের মাটি ছেড়ে চলে যাচ্ছে, অন্যদিকে এখন উৎপাদনে অন্যান্য দেশের সঙ্গে প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছে চিন। ব্লুমবার্গের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চিন তাদের অর্থনীতিকে ট্র্যাকে ফিরিয়ে আনতে উৎপাদন ও স্বাস্থ্য খাতে বিদেশী বিনিয়োগের দরজা খুলে দিচ্ছে তারা। এই প্রথম কোনো খাতে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগের অনুমতি দিচ্ছে চিন।
চিনের ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিফর্ম কমিশন (এনডিআরসি) এর একটি পোস্টে বলা হয়েছে, 1 নভেম্বর থেকে উৎপাদন এবং স্বাস্থ্য খাতে বিদেশী বিনিয়োগের দরজা পুরোপুরি খুলে দেবে চিন। এখন পর্যন্ত এসব খাতে শতভাগ বিদেশি বিনিয়োগ করা সম্ভব হয়নি। শুধু তাই নয়, বিদেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম শিথিল করবে চিন, যাতে বিনিয়োগে কোনো সমস্যা না হয়।
এনডিআরসি বলেছে, সরকার পরিষেবা শিল্পের সম্প্রসারণ এবং এতে বিদেশী বিনিয়োগের অ্যাক্সেসকে উৎসাহিত করার বিষয়ে আলোচনা চলছে। এছাড়াও স্বাস্থ্যসেবা খাতকে আরও উন্মুক্ত করতে বেশ কিছু নীতি ঘোষণা করেছে চিন। বাণিজ্য মন্ত্রকের ওয়েবসাইটে পোস্ট করা একটি বিবৃতি অনুসারে, বেইজিং, সাংহাই, গুয়াংডং এবং হাইনানে স্টেম সেল, জিন নির্ণয় এবং চিকিৎসার প্রযুক্তির বিকাশ সহ প্রয়োগে বিদেশী পুঁজিকে অংশগ্রহণের অনুমতি দেওয়া হবে। বিবৃতি অনুসারে, সম্পূর্ণ বিদেশী মালিকানাধীন হাসপাতাল স্থাপনের অনুমতি দেবে চিনের সরকার।




