Article By – সুনন্দা সেন

ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্কনীতির এক বছর পেরিয়ে গেলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ভারতের রপ্তানিতে বড় আঘাত আসেনি। বরং আমেরিকা এখনও ভারতের অন্যতম প্রধান রপ্তানি গন্তব্য হিসেবে নিজের অবস্থান ধরে রেখেছে। বাণিজ্য মন্ত্রকের তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মাসে ভারতের মোট রপ্তানির প্রায় ২০% গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। যার ফলে একদিকে মার্কিন শুল্কের চাপ, অন্যদিকে নতুন বাজার খোঁজার চেষ্টা; দুইয়ের মাঝেও আমেরিকার বাজারে ভারতের উপস্থিতি যথেষ্ট শক্তিশালী রয়েছে। আর গত এক বছরে ভারতীয় পণ্যের ওপর মার্কিন শুল্ক একসময় ৫০% পর্যন্ত পৌঁছেছিল। তা পরে কমে ১৮% এবং বর্তমানে অধিকাংশ পণ্যের ক্ষেত্রে ১০% শুল্ক রয়েছে।
এতটা অনিশ্চয়তার পরেও যুক্তরাষ্ট্রে ভারতের রপ্তানি পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং প্রোডাক্ট, ফার্মাসিউটিক্যালস, জেমস ও গয়না এবং টেক্সটাইলের মতো খাতগুলির জন্য আমেরিকার বাজার এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর পাশাপাশি ভারত বুঝতে পেরেছে যে শুধুমাত্র একটি বড় বাজারের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই গত এক বছরে ব্রিটেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ওমান এবং নিউজিল্যান্ডের মতো বাজারের সঙ্গে বানিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছে নতুন দিল্লী। আর উদ্দেশ্য একটাই মার্কিন বাজারে কোনও ধরনের শুল্ক বা বাণিজ্যিক ধাক্কা এলে বিকল্প বাজার যেন প্রস্তুত থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বাজার বৈচিত্র্যকরণের সুফল পেতে অন্তত দুই থেকে তিন বছর সময় লাগতে পারে। কারণ US-এর মতো বিশাল বাজারের চাহিদা এবং ক্রয়ক্ষমতা অন্য কোনও একটি বাজার দিয়ে দ্রুত পূরণ করা সম্ভব নয়। সেই কারণেই ভারতের রপ্তানিকারকদের কাছে আমেরিকা এখনও সবচেয়ে আকর্ষণীয় বাজারগুলির একটি। তবে ভারতের রপ্তানি কৌশলে পরিবর্তন ইতিমধ্যেই স্পষ্ট। সরকার বিদেশে বিক্রি হওয়া পণ্যের পরিসর বাড়াতে প্রায় ৫০০টি নতুন প্রোডাক্ট -ক্যাটাগরি যুক্ত করার চেষ্টা করছে, যার মধ্যে ইলেকট্রনিক্স, ইঞ্জিনিয়ারিং ও সামুদ্রিক পণ্য রয়েছে। একই সঙ্গে নতুন বাজারে ভারতীয় পণ্যের প্রবেশ বাড়ানো চেষ্টা চলছে।




