Article By – সুনন্দা সেন

ওয়াশিংটন থেকে বড় অর্থনৈতিক আপডেট। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ আবারও সুদের হার কমিয়েছে। সর্বশেষ বৈঠকে ফেড ২৫ বেসিস পয়েন্ট হ্রাস করে নীতি-সুদের হার নামিয়ে এনেছে ৩.৫০%–৩.৭৫%–এ। এটি চলতি বছরের তৃতীয় পরপর হার-কমানো, যা স্পষ্টভাবেই মার্কিন অর্থনীতির মন্দাকারী সংকেতের প্রতি সতর্ক অবস্থানকে তুলে ধরছে। ফেডের রিপোর্ট বলছে মার্কিন শ্রমবাজারে চাপ বাড়ছে, চাকরির বৃদ্ধি মন্থর, আর ভোক্তা ব্যয়েও ধীরগতি স্পষ্ট। তাই অর্থনীতিতে ধার নেয়া সস্তা করতে সুদ কমিয়ে বৃদ্ধিকে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে সিদ্ধান্তটি একেবারে সর্বসম্মত ছিল না। কয়েকজন সদস্য এর বিরোধিতা করেছেন, কেউ বড় কাট চেয়েছেন, কেউ আবার সুদ স্থির রাখার পক্ষেই ছিলেন।
এদিকে সুদ কমার পরপরই মার্কিন ডলার দুর্বল হয়ে পড়ে, যা বিশ্ববাজারে ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা বাড়িয়েছে। এর প্রভাব দেখা গেছে মার্কিন শেয়ারবাজারে—ডাও জোন্স, ন্যাসডাক ও S&P 500—সবই উর্ধ্বমুখী। বিশ্লেষকদের মতে, বাজার এখন “ইয়ার-এন্ড র্যালি” বা বছরের শেষের ঐতিহ্যবাহী উত্থানের দিকে এগোচ্ছে। ফেডের সুদ কমানোর সিদ্ধান্ত ভারতের জন্য মোটের উপর ইতিবাচক সংকেত বহন করে, কারণ ডলার দুর্বল হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীরা তুলনামূলক বেশি রিটার্নের খোঁজে উদীয়মান বাজারে আসতে আগ্রহী হন, ফলে ভারতীয় শেয়ারবাজারে বিদেশি তহবিল প্রবাহ বাড়তে পারে এবং রুপির স্থিতিশীলতাও শক্তিশালী হতে পারে।
বৈশ্বিক তারল্য বৃদ্ধি পেলে ব্যাঙ্কিং, ধাতু, রিয়েল এস্টেট ও অবকাঠামোসহ সুদ-সংবেদনশীল সেক্টরগুলোতে পুঁজির প্রবাহ বেড়ে সামগ্রিক বাজারে উর্ধ্বমুখী মানসিকতা তৈরি হতে পারে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের বাজারে কেবল এই ২৫ বেসিস পয়েন্ট কাটের প্রভাব সীমিত হতে পারে। কারণ বাজারের প্রকৃত দিক নির্ভর করবে দেশীয় কর্পোরেট আয়, অভ্যন্তরীণ চাহিদা, সরকারী ব্যয় ও RBI-এর ভবিষ্যৎ নীতির উপর। এজন্য বিনিয়োগকারীদের নজর এখন শুধু ফেডের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তেই নয়, বরং বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য, ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি এবং ভারতের নিজস্ব অর্থনৈতিক গতির দিকেও থাকবে।




