Article By – সুনন্দা সেন

গত দুই মাসে রপ্তানি বৃদ্ধির কারণে ভারতীয় বাসমতি চালের দাম ১৫-২০% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে আগামী সপ্তাহগুলিতে তা কমতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে, কারণ ইসরায়েলের সাথে ইরানের চলমান সংঘাতের মধ্যে ইরানে বাসমতি চালের রপ্তানি হ্রাস পেতে পারে। কৃষি ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য রপ্তানি উন্নয়ন সংস্থা বা APEDA(Agricultural and Processed Foods Export Development Agency) অনুসারে, সৌদি আরব এবং ইরাকের পরে ইরান ভারতীয় বাসমতি চালের তৃতীয় বৃহত্তম ক্রেতা। ২০২৪-২৫ সালে, ইরানে ভারতের বাসমতি চাল রপ্তানির মূল্য ছিল ৬,৩৭৪ কোটি টাকা, যা সেই সময়ের জন্য ভারতের মোট বাসমতি রপ্তানির ১২.৬%।
প্রকাশিত তথ্য অনুসারে, ভারতীয় বাসমতি চালের দাম ৭৫-৯০ টাকা/কেজিতে নেমে আসার পর পশ্চিম এশিয়া এবং ইরানের প্রধান আমদানিকারক দেশগুলি তাদের ক্রয় বাড়িয়েছিল, যার ফলে দামে উচ্চ বৃদ্ধি দেখা দেয়। বাসমতি চালের এক রপ্তানিকারক সংবাদমাধ্যমের সাথে কথা বলার সময় বলেছেন, “দাম সংশোধন করা হয়েছে, কারণ মালবাহী পণ্যের দাম বৃদ্ধি এবং ট্রান্সশিপমেন্ট সমস্যার আশঙ্কা রয়েছে।” আবার মহারাষ্ট্রের বাসমতি চালের রপ্তানিকারক এবং দেশীয় ব্যবসায়ী ধাবল শাহ বলেন, “বিশ্বব্যাপী রপ্তানি চাহিদা একাধিক কারণে কম থাকায় এপ্রিল মাসে ভারতীয় বাসমতি চালের দাম সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। তবে, সকলেই কম দামে চাল মজুদ করতে চাওয়ায় রপ্তানি চাহিদা বৃদ্ধি পায়। যার ফলে মে মাসে রপ্তানি বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে বাসমতি চালের দাম প্রায় ১৫-২০% বৃদ্ধি পায়।”
যদিও দাম আপাতত স্থিতিশীল থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ট্রাম্পের প্রভাব বা যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলি ভবিষ্যতের দামের গতিপথ নির্ধারণ করবে। যুদ্ধের তীব্রতার ইঙ্গিত দেখলে দেশগুলি তাদের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য আরও বেশি কিছু কেনার প্রবণতা রাখে। সেক্ষেত্রে দাম স্থিতিশীল থাকবে, কিন্তু এমনটা না হলে বাসমতি চালের দাম কমবে। ইন্ডিয়ান রাইস এক্সপোর্টার্স ফেডারেশনের জাতীয় সভাপতি প্রেম গর্গ বর্তমান সমুদ্র পরিবহন এবং পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। আরও জানা যাচ্ছে যে বাণিজ্য অনুমান অনুসারে, ইরানের সাথে বাসমতি বাণিজ্যের জন্য বকেয়াসাধারণত ১,০০০-১,২০০ কোটি টাকার। কারণ ইরানের সাথে ভারতের বাণিজ্যে দেশীয় রপ্তানিকারকরা ২০% অগ্রিম পেমেন্ট নেন এবং বাকি ১৮০ দিনের ক্রেডিট হয়।




