Article By – সুনন্দা সেন

ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে যুক্ত হলো এক নতুন অধ্যায়। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ইন্দোনেশিয়া সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ভারতের তৈরী ব্রহ্মোস সুপারসনিক ক্রজ-মিশাইল এবং অ্যাস্ট্রো এয়ার-টু-এয়ার মিশাইল সংক্রান্ত ডিফেন্স এগ্রিমেন্ট বা প্রতিরক্ষা চুক্তি। এই চুক্তির আওতায় ভারত, ইন্দোনেশিয়াকে ব্রহ্মোস মিশাইল সরবরাহ করবে। পাশাপাশি দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি অ্যাস্ট্রো মিশাইলও রপ্তানি করা হবে, যা ইন্দোনেশিয়ার সুখোই ফাইটার জেটে ব্যবহার করা হবে।
তবে সহযোগিতা শুধু প্রতিরক্ষাতেই সীমাবদ্ধ নয়। দুই দেশ গুরুত্বপূর্ণ খনিজ, ইস্পাত সরবরাহ শৃঙ্খল, সামুদ্রিক নিরাপত্তা, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, স্বাস্থ্য, কৃষি এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও একমত হয়েছে। মালাক্কা প্রণালীর কাছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সাবাং বন্দরের উন্নয়নেও সহযোগিতা জোরদারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
একই সাথে এই চুক্তির বড় অর্থনৈতিক তাৎপর্যও রয়েছে। প্রতিরক্ষা রপ্তানি বাড়লে ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে নতুন অর্ডার, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ও প্রতিরক্ষা উৎপাদনে আত্মনির্ভর ভারতের লক্ষ্য আরও এগিয়ে যাবে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ভারত ও ইন্দোনেশিয়ার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ২৮.১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।
নতুন চুক্তিগুলি ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ এবং শিল্প সহযোগিতাকে আরও গতি দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমঝোতা শুধু দুই দেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ককে নয়, বরং সমগ্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে ভারতের কৌশলগত উপস্থিতি এবং অর্থনৈতিক প্রভাবকে আরও শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বাজারে ভারত যে দ্রুত একটি নির্ভরযোগ্য রপ্তানিকারক হিসেবে উঠে আসছে, এই চুক্তি তারই আরেকটি বড় প্রমাণ।




