পান্ডা বন্ডের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহের প্রস্তুতি নিচ্ছে পাকিস্তান। তহবিল সংগ্রহের জন্য পাঁচটি বিড পাওয়া গিয়েছে চিনা কোম্পানির কাছ থেকে। বিশ্ব পুঁজিবাজারে ফিরে যাওয়ার জন্য উঠে পড়ে লেগেছে পাকিস্তান। ব্লুমবার্গের প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিনটি আইন সংস্থা এবং দুটি ক্রেডিট রেটিং সংস্থার কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছে সে দেশের অর্থ মন্ত্রণালয়।
প্রকৃতপক্ষে, পান্ডা বন্ড হল একটি বিশেষ ধরনের বন্ড। এই বন্ড বিদেশী কোম্পানি বা সরকারের পক্ষ থেকে চিনা মুদ্রায় জারি করা হয়। এই বন্ডগুলি মূলত বিক্রি হয় চিনের বাজারে। তহবিলের উৎসে বৈচিত্র্য আনতে এবং নতুন বিনিয়োগকারী বাজারে প্রবেশ করার জন্য পান্ডা বন্ড ইস্যু করে নিঃসন্দেহে কৌশলগত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে পাকিস্তান।
বর্তমানে দেশীয় অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে এবং পশ্চিমী আর্থিক বাজারগুলির উপর নির্ভরতা কমাতে চাইছে পাকিস্তান। ইউরোপ ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যত তহবিল সংগ্রহের উদ্যোগের গুরুত্ব তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী মুহাম্মদ আওরঙ্গজেব পান্ডা বন্ড প্রসঙ্গে জানান, “চিন পান্ডা বন্ডকে সমর্থন করবে।” পাকিস্তানের এই পান্ডা বন্ড ইস্যু করা কেবল প্রয়োজনীয় আর্থিক সংস্থানই রক্ষা করবে তাই নয়, বরং চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের কূটনৈতিক সম্পর্কও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির জন্য পাকিস্তানের এই পদক্ষেপ। ক্রমবর্ধমান ঋণের দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব সম্পর্কে সতর্ক করার পাশাপাশি, এই অঞ্চলে চিনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব এবং ঋণ পরিশোধের সঙ্গে যুক্ত হওয়া পাকিস্তানের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি হতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।
বিদেশী সরকার এবং কর্পোরেশনগুলিকে চিনা বিনিয়োগকারীদের কাছ থেকে মূলধন সংগ্রহের জন্য সহায়তা প্রদান করে এই পান্ডা বন্ড। পাকিস্তানের বন্ড ইস্যু করার সিদ্ধান্ত সেদেশের অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পাশাপাশি, চিনের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্পর্ক মজবুত করবে। চিন হল পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
পাকিস্তান ও চিনের মধ্যে ঘনিষ্ঠ অর্থনৈতিক সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে চিনা বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করবে এই পান্ডা বন্ড, এমনটাই আশা করা হচ্ছে। বন্ড থেকে আয় করা অর্থ সামাজিক সেবা এবং অবকাঠামো উন্নয়নে ব্যবহার করা হতে পারে।
Article By – আস্তিক ঘোষ






