Article By – সুনন্দা সেন

এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (ANI)-এর কথপোকথনের সময় অয়েল মার্কেটের বিশেষজ্ঞরা বলেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং রাশিয়ার মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা বিশ্বব্যাপী তেল সরবরাহ শৃঙ্খলকে ব্যহত করতে পারে। যার কারণে আগামী মাসগুলি ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেল প্রতি ৮০ মার্কিন ডলারে বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা, বিশেষ করে সম্ভাব্য মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অথবা রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলির উপর ১০০% শুল্ক আরোপের ফলে ব্রেন্টের দাম ব্যারেল প্রতি ১২০ মার্কিন ডলারের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে। ভেনচুরার পণ্য ও CRM প্রধান NS Ramaswamy (রামাস্বামী) বলেন, ব্রেন্ট অয়েলের স্বল্পমেয়াদী (অক্টোবর, ২০২৫) লক্ষ্যমাত্রা ৭২.০৭ ডলার থেকে ৭৬ ডলার।
মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়াকে ১০-১২ দিনের মধ্যে ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার জন্য আদেশ দিয়েছে। সাথে সতর্কতা জারি করে বলেছেন, অন্যথা হলে অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞা এবং বাণিজ্য জরিমানার মুখোমুখি হতে হবে দেশটিকে। যা বিশ্বব্যাপী তেলের পরিস্থিতিকে আরও খারাপ করতে পারে। বিশেষজ্ঞর মতে ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI) অপরিশোধিত তেলের ক্ষেত্রে বর্তমান মূল্য ৬৯.৬৫ ডলার থেকে স্বল্পমেয়াদী লক্ষমাত্রায় (সেপ্টেম্বর, ২০২৫) বেড়ে ৭৩ ডলার হবে বলে আশা করছে। আর বছরের শেষে এই মূল্য সম্ভবত ৭৬ ডলার থেকে ৭৯ ডলারে বৃদ্ধি পেতে পারে। আবার অনেকের মতে WTI তেলের দাম ৬৫ ডলারে নেমে যেতেও পারে।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ নরেন্দ্র তানেজা উল্লেখ করেছেন যে রাশিয়া বিশ্বব্যাপী সরবরাহ শৃঙ্খলে প্রতিদিন প্রায় ৫০ লক্ষ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করে। যদি রাশিয়ান তেল জোর করে অয়েল মার্কেটের বাইরে বের করে দেওয়া হয়, তাহলে অপরিশোধিত তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। আর সেই বৃদ্ধির ফলে তেলের দাম সম্ভবত ১০০-১২০ ডলারের মধ্যে থাকবে। ভারত যেহেতু আরও ৪০ টি দেশ থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার সুযোগ পায়, সেই কারণে মূল্য বৃদ্ধির প্রভাব কম অনুভব করবে। তবে দামের অস্থিরতা থেকে গ্রাহকদের রক্ষা করা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। বিশ্লেষকরা বলছেন যে OPEC+ দেশগুলির অতিরিক্ত তেলের সক্ষমতা সীমিত হলেও সৌদি আরব এবং অন্যান্য উৎপাদকরা শেষ পর্যন্ত সরবরাহ বাড়িয়ে দিতে পারে। তবে স্বল্পমেয়াদী ঘাটতি দাম বৃদ্ধির কারণ হতে পারে।




