Article By – আস্তিক ঘোষ

মনে করুন, দিল্লি থেকে প্রায় 100 কিলোমিটার দূরে একটি শহরে থাকেন আপনি। বর্তমানে মুম্বইতে আছেন এবং ফ্লাইটের মাধ্যমে নিজের বাড়িতে আসতে চান। কিন্তু আপনার শহরে ফ্লাইট অবতরণ করা সম্ভব নয়। তাহলে আপনাকে ফ্লাইটে দিল্লিতে নামতে হবে। সেখান থেকে ক্যাব নিয়ে সরাসরি বাড়িতে পৌঁছাতে হবে। বাড়িতে পৌঁছানোর জন্য যদি কোনও ক্যাব সুবিধা না থাকে, তবে আপনাকে দিল্লির যে কোনও বাস স্ট্যান্ড কিংবা রেলওয়ে স্টেশন থেকে বা অন্য কোনও উপায়ে ক্যাব নিতে হবে। এখান থেকে আপনি বাস কিংবা ট্রেনে আপনার বাড়িতে যাবেন। এবার মনে করুন, দিল্লি বিমানবন্দরে অবতরণ করেছেন এবং সেখান থেকে একটি ট্রেন বা বাসে চড়ে সরাসরি আপনার বাড়িতে চলে গেছেন। এমন পরিস্থিতিতে শুধু আপনার টাকাই সাশ্রয় হবে না, আপনার সময়ও বাঁচবে। এবার সেই উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার।
সরকারের পরিকল্পনা ‘এক জাতি, এক অবস্থান।’ এই পরিকল্পনার আওতায় সড়ক, রেলপথ, আকাশপথ, নৌপথ ও রোপওয়ে সহ সব পরিবহন ব্যবস্থা এক জায়গায় আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। সেই উদ্দেশ্য পূরণের জন্য সারা দেশ জুড়ে গণপরিবহন ও টার্মিনাল অবকাঠামো তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক মন্ত্রণালয়। কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মকর্তারা এই প্রসঙ্গে বলেছেন, সরকার গৃহীত এই অভিনব পদক্ষেপের লক্ষ্য দেশে পণ্য ও যাত্রী চলাচলের দক্ষতা পূর্বের তুলনায় আরও উন্নত করা। সরকারের এই উদ্যোগ গ্রহণের ফলে যাত্রীদের অনেক সুবিধা হবে। পাশাপাশি সময়ও বাঁচবে তাঁদের।
পাইলট হাব তৈরি করার মধ্য দিয়েই নতুন প্রকল্পের কাজ শুরু করবে কেন্দ্রীয় সরকার। কাটরা এবং তিরুপতিতে দুটি পাইলট হাব তৈরি করা হবে বলে সূত্রের খবর। বারাণসী এবং নাগপুরে দুটি পাইলট হাব তৈরি করা হবে। এই পাইলট হাব তৈরির দায়িত্বে রয়েছে ন্যাশনাল হাইওয়ে লজিস্টিক ম্যানেজমেন্ট। এটি ভারতের ন্যাশনাল হাইওয়ে অথরিটি (NHAI) এর সম্পূর্ণ মালিকানাধীন কোম্পানি।
সরকার মনে করে, সরকারি বাস, মেট্রো, রিকশা, অটোরিকশা ইত্যাদিতে যাতায়াতের সময় যাত্রীদের অনেক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয়। হোটেল এবং লাউঞ্জে ভরা শহরের রাস্তা দিয়ে ভ্রমণ করতে হয়। এতে যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয় এবং অনেক সময় ও অর্থ ব্যয় হয়। তবে বর্তমানে সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণের পথে হাঁটছে তাতে যাত্রীদের সময় এবং যাতায়াতের সমস্যা দুটোই দূর হবে বলে খবর।





