Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের আমদানি নির্ভরতা কমাতে বড় পদক্ষেপ নিতে চলেছে কেন্দ্র। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রকের অধীনে DPIIT (Department For Promotion of Industry and International Trade) দেশের সবচেয়ে বেশি আমদানি হওয়া প্রায় ৫০০টি পণ্যের উপর বিস্তারিত বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। তাদের লক্ষ্য হল – যে পণ্যগুলি বর্তমানে বিদেশ থেকে বড় পরিমাণে আনা হয়, সেগুলির মধ্যে কোনগুলি দেশে উৎপাদন করা সম্ভব তা চিহ্নিত করা এবং ধীরে ধীরে দেশের আমদানি বিল কমানো। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’ ধারণাকে শক্তিশালীভাবে বাস্তবায়িত করবে।
আমদানি করা পণ্যের তালিকায় রয়েছে যন্ত্রপাতি, সার, রাসায়নিক, কটন স্ট্যাপল ফাইবার, প্লাস্টিক, সিলিকন ওয়েফার, কার্বন ফাইবার, হারভেস্টার -ফ্রেশার, টার্বো জেটের যন্ত্রাংশ এবং কিছু বিশেষ গ্রাফাইট পণ্য। DPIIT বিভিন্ন মন্ত্রক থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে। আর বিশেষ ভাবে নজর রাখছে – কোন পণ্যে কতটা আমদানি নির্ভরতা রয়েছে, দেশীয় উৎপাদন শুরু করতে কত সময় ও বিনিয়োগ লাগবে এবং সেই পণ্যের কৌশলগত গুরুত্ব কতটা ইত্যাদি বিষয়ে। আর সরকারের প্রাথমিক লক্ষ্য প্রায় ১০০টি– এমন পণ্য বেছে নেওয়া, যেগুলির আমদানি খুব বেশি হলেও ভারতে উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। বিশেষ করে ইলেকট্রনিক্স ও কেমিক্যালস খাতের ক্ষেত্রে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
২০২৫-২৬ অর্থবছর (FY26)-এ ভারতের মোট পণ্য আমদানি বিল ছিল প্রায় ৭৭৫ বিলিয়ন ডলার। এর মধ্যে তেল আমদানির ক্ষেত্রে খরচ হয়েছিল ১৭৪ বিলিয়ন ডলার, ইলেকট্রনিক্স ১১৬ বিলিয়ন ডলার এবং সোনা আমদানি হয় ৭২ বিলিয়ন ডলার মূল্যে। ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানি কমানো গেলে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি সরবরাহ ব্যবস্থার নিরাপত্তাও বাড়বে বলে মনে করছে সরকার। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উদ্যোগ “মেক ইন ইন্ডিয়া”কে শক্তিশালি করার পাশাপাশি, বিশ্বব্যাপী ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সরবরাহ শৃঙ্খলের ঝুঁকির মধ্যেও ভারতের শিল্পভিত্তিকে আরও স্বনির্ভর করে তুলতে পারে।




