Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের অর্থনৈতিক পরিমাপে বড় সংস্কারের পথে হাঁটতে চলেছে সরকার। আসন্ন নতুন GDP সিরিজে অনানুষ্ঠানিক (ইনফরমাল) খাতের আকার ও অবদান আরও নির্ভুলভাবে ধরতে একাধিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। যার মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো ‘ডাবল ডিফ্লেশন’ পদ্ধতির সংযোজন। এই পদক্ষেপে দেশের প্রকৃত অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ছবি আরও বাস্তবসম্মতভাবে উঠে আসবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে GDP গণনায় অনেক ক্ষেত্রে সিঙ্গল ডিফ্লেশন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়, যেখানে আউটপুটের মূল্য থেকে মুদ্রাস্ফীতির প্রভাব বাদ দেওয়া হয়।
কিন্তু নতুন সিরিজে ডাবল ডিফ্লেশন পদ্ধতিতে আউটপুট ও ইনপুট—দু’টির ক্ষেত্রেই আলাদা আলাদা মূল্যসূচক ব্যবহার করা হবে। এর ফলে উৎপাদন খরচ, কাঁচামালের দাম এবং প্রকৃত মূল্য সংযোজন (Value Added) আরও সঠিকভাবে ধরা পড়বে। বিশেষ করে ভারতের অনানুষ্ঠানিক খাত, যেখানে ছোট ব্যবসা, স্বনিযুক্ত কর্মী, ক্ষুদ্র উৎপাদন ইউনিট ও পরিষেবা ক্ষেত্রের বড় অংশ জড়িত, সেখানে তথ্যের ঘাটতির কারণে GDP অনুমানে দীর্ঘদিন ধরেই চ্যালেঞ্জ ছিল। নতুন GDP সিরিজে ডিজিটাল লেনদেনের তথ্য, GST ডেটা, শ্রমবাজার সংক্রান্ত সমীক্ষা এবং প্রশাসনিক ডেটার আরও বেশি ব্যবহার করে এই খাতের পরিমাপ উন্নত করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংস্কারের ফলে কিছু ক্ষেত্রে আগের তুলনায় বৃদ্ধির হার বাড়তেও পারে, আবার কিছু ক্ষেত্রে কম দেখাতে পারে, তবে তা হবে বাস্তবের কাছাকাছি। আন্তর্জাতিক সংস্থা যেমন IMF ও World Bank আগেও ভারতের GDP পরিমাপে ডাবল ডিফ্লেশন ব্যবহারের সুপারিশ করেছিল, যাতে উন্নত দেশগুলির সঙ্গে পদ্ধতিগত সামঞ্জস্য বাড়ে। সরকারি মহলের দাবি, নতুন GDP সিরিজ চালু হলে নীতি নির্ধারণ আরও কার্যকর হবে। অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান, উৎপাদনশীলতা ও আয়ের প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট হলে বাজেট বরাদ্দ, করনীতি এবং সামাজিক প্রকল্প পরিকল্পনায় আরও সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হবে।




