Article By – সুনন্দা সেন

দেশের অর্থনৈতিক তথ্যকে আরও নির্ভুল ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে ভারত সরকার মোট দেশজ উৎপাদন বা GDP হিসাবের পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তনের ঘোষণা করেছে। সরকারি এক শীর্ষ পরিসংখ্যান আধিকারিক জানিয়েছেন, নতুন এই ডেটা সিরিজ খুব শিগগির প্রকাশ করা হবে এবং এতে অর্থনীতির প্রকৃত বৃদ্ধি আরও পরিষ্কারভাবে বোঝা যাবে। নতুন ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হচ্ছে মূল্যস্ফীতি সমন্বয়ের পদ্ধতিতে। আগে সীমিত সংখ্যক পণ্যের দামের উপর ভিত্তি করে প্রকৃত GDP হিসাব করা হত।
তবে এখন সেই তালিকা অনেক বড় করা হয়েছে, ভোক্তা মূল্যসূচক এবং পাইকারি মূল্যসূচকের আরও বেশি সংখ্যক পণ্যের তথ্য ব্যবহার করা হবে। ফলে বাস্তব উৎপাদন বৃদ্ধির হিসাব আরও নির্ভুল হবে বলে মনে করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি সরকার ধীরে ধীরে “ডাবল ডিফ্লেশন” পদ্ধতি চালু করতে যাচ্ছে। এই পদ্ধতিতে উৎপাদনের চূড়ান্ত পণ্যের দাম এবং উৎপাদনে ব্যবহৃত কাঁচামালের দাম আলাদা করে সমন্বয় করা হয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, শিল্প ও উৎপাদন খাতে প্রকৃত মূল্য সংযোজন বোঝার জন্য এই পদ্ধতি অনেক বেশি কার্যকর এবং উন্নত দেশগুলিতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
নতুন GDP সিরিজে ভিত্তিবর্ষও বদলানো হচ্ছে। অর্থনীতির বর্তমান কাঠামোর সঙ্গে মিল রেখে নতুন ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছে ২০২২-২৩। এর ফলে পুরনো বছরগুলোর বৃদ্ধির হিসাবও নতুনভাবে সংশোধিত হয়ে প্রকাশিত হবে। অর্থনীতিবিদদের একাংশ দীর্ঘদিন ধরে বলছিলেন, পুরনো মূল্যতথ্য এবং সীমিত সূচকের কারণে কখনও কখনও প্রকৃত বৃদ্ধির হার পুরোপুরি প্রতিফলিত হয় না। নতুন এই সংস্কারের মাধ্যমে সেই সমস্যাগুলি কমবে এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী ও নীতিনির্ধারকদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক পরিসংখ্যানের বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সরকারি সূত্রে আরও জানা গেছে, GDP-র পাশাপাশি ভবিষ্যতে খুচরো মূল্যসূচক, পাইকারি মূল্যসূচক এবং শিল্প উৎপাদন সূচকেও ধাপে ধাপে আধুনিকীকরণ আনা হবে। অর্থাৎ সামগ্রিকভাবে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও তথ্যভিত্তিক করার দিকেই এগোচ্ছে প্রশাসন।




