Article By – সুনন্দা সেন

কেন্দ্রীয় বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী পীয়ূষ গোয়েল বলেছেন যে ভারত মধ্যপ্রাচ্য-ইউরোপ অর্থনৈতিক করিডোর বা IMEC ,মহাদেশ জুড়ে নিরবিচ্ছিন্ন বাণিজ্য সংযোগ তৈরি করবে। আর পরিবহন সময় ৪০% কমানোর সাথে লজিস্টিক খরচ ৩০% পর্যন্ত কমিয়ে আনবে। তিনি আরও বলেন যে, এটি কেবল বাণিজ্যিক সম্পর্ক নয়, ভারত সিভিলাইজেশন (সভ্যতা) এবং সংস্কৃতি (Culture)-গুলি সংযুক্ত করবে। আর তা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া থেকে উপসাগরীয় অঞ্চল হয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে মধ্য ইউরোপ পর্যন্ত বিস্তৃত থাকবে। এছাড়া IMEC মধ্যপ্রাচ্যের মাধ্যমে আফ্রিকার সাথে সংযোগ উন্নত করতে পারে। প্রস্তাবিত করিডোরে রেলপথ, সড়কপথ, এনার্জি পাইপলাইন এবং আন্ডাসি ক্যবেল সহ ক্লিন এনার্জি অবকাঠামো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
গোয়াল করিডোরের স্থায়িত্ব এবং ডিজিটাল সংযোগের উপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার উপর জোর দেন। তিনি বলেন, প্রথমত IMEC-কে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ বা PPP-এর দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই উদ্যোগটি কেবল সরকারের উপর ছেড়ে দেওয়া হলে এর দক্ষতা এবং আর্থিক কার্যকারি তা সীমিত হবে। এই পদ্ধতিটি আরও স্মার্ট এবং সাশ্রয়ী পরিকল্পনা নিশ্চিত করবে। কারণ বেসরকারি খাত এমন সমাধান প্রস্তাব করতে পারে যা ব্যবহারিক উপযোগিতা প্রতিফলিত করে। আর তার দ্বিতীয় পরামর্শ হলো নিয়ন্ত্রক সংযোগের উপর জোর দেওয়া। তিনি অংশগ্রহণকারী দেশগুলির মধ্যে বাণিজ্য প্রক্রিয়া, শুল্ক পদ্ধতি এবং কাগজপত্রের ক্ষেত্রে বৃহত্তর সমন্বয়ের পক্ষে কথা বলেন।
তিনি পরামর্শ দেন যে ভারতের ইউনিফাইড পেমেন্টস ইন্টারফেস বা UPI-এর মতো সাধারণ ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেমগুলি নিরবিচ্ছিন্ন আর্থিক লেনদেন সক্ষম করার জন্য একটি মডেল হিসেবে কাজ করতে পারে। বিশ্বব্যাপী গৃহীত রিজার্ভ মুদ্রায় পর্যায়ক্রমিক নিষ্পত্তির মাধ্যমে এই ধরনে ব্যবস্থা লেনদেনের ফ্রিকশন এবং ব্যাংকিং খরচ কমাতে পারে। তৃতীয় পরামর্শের বিষয় বলতে গিয়ে গোয়েল করিডোরের উন্নয়ন এবং এর ফলে উৎপন্ন বাণিজ্য, উভয়কেই সমর্থন করার জন্য উদ্ভাবনী অর্থায়ন মডেলের প্রয়োজনীয়তার উপর জোর দেন। আর চতুর্থ সুপারিশ ছিল শিল্প সংস্থা এবং বাণিজ্য সমিতিগুলির সাথে সক্রিয় সম্পৃক্ততা বজায় রাখা। তাই ব্যবসার প্রকৃত চাহিদার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি করিডোর ডিজাইনের জন্য তাদের অন্তর্দৃষ্টি অপরিহার্য।




