অবসর জীবন আর পেনশন, সাধারণ মানুষের কাছে বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ অবসরের পর আমাদের উপার্জন বন্ধ হয়ে যায়। তাই কর্মরত বা বলা চলে চাকরিরত অবস্থায় পেনশনের প্ল্যান করে রাখতে হয়। অতীতে অবসর জীবন অর্থনৈতিক দিক থেকে নিশ্চিত করতে ব্যাংকে বিনিয়োগ করা হত। বা বলা চলে দীর্ঘ সময়ের জন্য ব্যাংক রেকারিং করার চল ছিলো আর তা না হলে FD। তবে সম্প্রতি বাজারে পেনশন সংক্রান্ত বিভিন্ন পলিসি এবং মিউচ্যুয়াল ফান্ড রয়েছে। অবশ্য সেগুলিতে উচ্চ ঝুঁকি থাকে। এমন অবস্থায় প্রশ্ন জাগতেই পারে, কোথায় বিনিযোগ করলে নিরাপত্তার সাথে সর্বোচ্চ পেনশন পাওয়া যাবে? আর এর উত্তর হল NPS বা ন্যাশানাল পেনশন সিস্টেম। দীর্ঘমেয়াদের বিনিয়োগ বিকল্পের মধ্যে এটি অন্যতম। NPS- এ বিনিয়োগ করে আপনারা মাসে ১ লক্ষ টাকা পর্যন্ত পেনশন পেতে পারেন। তবে তার জন্য অবশ্যই অবলম্বন করতে হবে বিনিয়োগ কৌশল।
বিনিয়োগের হিসাব দেখার আগে অবশ্যই জানতে হবে কেনো NPS হতে পারে সাধারণ মানুষদের অন্যতম বিনিয়োগ বিকল্প? আসলে NPS- এ সরকারি চাকরিজীবিদের সাথে বেসরকারি কর্মচারিরাও বিনিয়োগ করতে পারেন। আর স্কিমে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিনিয়োগ করার পর মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকৃত অর্থের সাথে সুদ সমেত কিছু অর্থ হাতে আসে আর বাকি পেনশন হিসাবে ব্যবহার করা হয়। ন্যাশনাল পেনশনের স্কিম পাঁচটি কারণের জন্য সাধারণ মানুষদের কাছে। আর সেগুলি হল –
- টায়ার ২ সিটিতে কোন প্রকার ট্যাক্স বেনিফিট প্রদান না করলেও টায়ার ১- এর বিনিয়োগকারীদের নানা ধরনের ট্যাক্স ইনসেনটিভ প্রদান করা হয়। এছাড়া ৭০ বছর পর্যন্ত NPS- গ্রাহকরা ৬০% ট্যাক্স ফ্রি উইথড্র করতে পারবেন।
- NPS একটি কমপাউন্ড অর্থলগ্নি মূলক প্ল্যান।

- আমরা জানি ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ সর্বোচ্চ রিটার্ন প্রদান করে। আর ইক্যুইটি ইনভেস্টমেন্টের ওপর ৫০% ক্যাপের সীমা বাড়িয়ে ৭৫% করা হয়েছে। অর্থাৎ রিটার্ন আরও ভালো।
- সরকার নিয়ন্রিত হওয়ায় ঝুঁকি কম এবং রিটার্নও সর্বোচ্চ পাওয়ার সুযোগ থাকে।
- অন্যান্য পেনশন বিকল্পে ৬০ বছরের আগে বিনিয়োগ শেষ হয়ে যায়, তবে NPS- এর ক্ষেত্রে ৭০ বছর পর্যন্ত বিনিয়োগ করার সুযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে ঠিকঠাক ভাবে কৌশল জেনে বিনিয়োগ করলে NPS থেকে অবসরের পর প্রত্যেক মাসে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পেনশন পাওয়া যায়। চলুন দেখে নেওয়া যাক কিভাবে, – যদি ২৫ বছরের কোনো ব্যক্তি মাসিক ১৫ হাজার টাকা SIP করেন। তবে ৪০ বছর পর তার মোট বিনিয়োগ দাঁড়াবে ৬৩,০০,০০০ টাকায়। বার্ষিক ১০% রিটার্ন ধরলে লাভ বা ইন্টারেস্ট পাওয়া যাবে ৫,০৬,৪৯,৫৭১ টাকা। ৩৫ বছর পর NPS ফান্ডের পরিমাণ দাঁড়াবে ৫,৬৯,৪৯,৫৭১ টাকা। যদি মেয়াদ পূর্তির টাকা থেকে ৬০% অর্থাৎ ৩৪,১৬৯,৭৪২ টাকা তুলে নেওয়া হয়। বাকি পড়ে থাকবে ২২,৭৭৯,৮২৪ টাকা। এই টাকা ৬% বার্ষিক সুদ পেলে প্রতি মাসে ১১৩,৮৯৯.১৪ করে পেনশন পেতে পারেন।
এছাড়াও নানান বয়সের জন্য NPS– এর ভিন্ন ভিন্ন প্ল্যান রয়েছে। কোন বয়সে কোন টাকা জমা করা উচিত? কিভাবে করবে? আর কোন স্কিমে বিনিয়োগ করলে সমান লাভ করার এমন সুযোগ রয়েছে জানুন বিস্তারিত।




