Article By – সুনন্দা সেন

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় অন্যান্য রাজ্য থেকে ফিরে আসতে বাধ্য হওয়া বাঙালি পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্য একটি প্রকল্পের ঘোষণা করেছেন। আর এই ‘শ্রমশ্রী প্রকল্প’ একটি ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে ফিরে আসা পরিযায়ী শ্রমিকদের জব কার্ড প্রদান করবে। ১৮ আগস্ট, ২০২৫ (সোমবার) প্রকল্পটি ঘোষণা করে মূখ্যমন্ত্রী বলেন, এই প্রত্যাবর্তনকারী কর্মীরা একবছর বা কর্মসংস্থা যোগদান না করা পর্যন্ত প্রতিমাসে ৫,০০০ টাকা করে ভাতা পাবেন। অবশ্য প্রকল্প ঘোষণার আগেও মূখ্যমন্ত্রী বাঙ্গালী পরিযায়ী শ্রমিকদের ফিরে আসতে বলেছিলেন এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে রাজ্য সরকার স্বয়ং তাদের দেখাশোনা করবে। সাথে জানা যাচ্ছে ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর তিনটি মেট্রো স্টেশন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে মমতা বন্দোপাধ্যায় অনুপস্থিত থাকতে পারেন।
পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী প্রকল্প ঘোষণার সাথে বলেন, খাদ্য নিশ্চিতকরণ প্রকল্প ‘খাদ্য সাথী’, স্বাস্থ্য প্রকল্পের আওতায় আশা ‘স্বাস্থ্য সাথীর’- সুবিধাও পারেন পরিযায়ী শ্রমিকরা। পাশাপাশি সরকার তাদের সন্তানদের শিক্ষা সংক্রান্ত বিষয়েও যত্ন নেবে। তিনি বলেন অন্যান্য রাজ্যগুলিতে প্রায় ২২ লক্ষ অভিবাসী শ্রমিক এবং তাদের পরিবার হয়রানির শিকার হচ্ছে। বিশেষ করে বাঙালি অভিবাসী শ্রমিকদের উপর পূর্বপরিকল্পিত আক্রমন চলছে। আর এই বিষয়টি আগামী বছরের রাজ্য নির্বাচনের আগে তুলে ধরেছেন পশ্চিমবঙ্গের মূখ্যমন্ত্রী। হরিয়ানার গুরুগ্রামে ৫২ জন বাঙালি অভিবাসী শ্রমিককে বাংলাদেশ থেকে আসা অবৈধ অভিবাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার পর তিনি সম্পূর্ণ বিষয় তুলে ধরেছেন।
আজ তিনি বলেন, অন্যান্য রাজ্যে কর্মরত শ্রমিকরা অসহায়ভাবে ফিরে আসছেন, নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। তাদের ভাষার কারণে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে। আমরা এই সমস্ত বিষয় নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা বাংলার বাইরের রাজ্যগুলিতে কর্মরত বাংলাভাষী শ্রমিকদের ফিরিয়ে আনার এবং তাদের পুনর্বাসনের জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করেছি। অন্যদিকে বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী বলেন, প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিক ৫০,০০০ থেকে ১.৫ লক্ষ টাকা আয় করে। এই ৫০০০ টাকা তাদের জন্য কিছুই সাহায্য করবে না। তারা গুজরাটে খুশি, মহারাষ্ট্রে খুশি, দিল্লিতে খুশি, হরিয়ানায় খুশি, দক্ষিণ ভারতে খুশি। তারা ৫০০০ টাকার জন্য বাংলায় আসবে না।




