Article By – সুনন্দা সেন

ডিসেম্বর মাসে ভারতের ভোক্তা মূল্যস্ফীতি বা কনজিউমার প্রাইস ইনডেক্স (CPI) কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে বলে অনুমান করা হচ্ছে। অর্থনীতিবিদদের দ্বারা প্রকাশিত এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ডিসেম্বর, ২০২৫-এ দেশের মূল্যস্ফীতি ১.৫০%-এ পৌঁছাতে পারে। হার নভেম্বর মাসে (আগের মাসে) আরও কম ছিল, যার ফলে বছরের শেষ মাসে সামান্য উর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। ভারতীয় বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃদ্ধির প্রধান কারণ খাদ্যদ্রব্যের দামের চাপ। শীতকালীন মরশুমে সাধারণত সবজির দাম কিছুটা কম থাকে, কিন্তু এবার কয়েকটি খাদ্যপণ্যের দামে উর্ধ্বগতি দেখা গেছে।
পাশাপাশি আগের বছরের (২০২৪ সালের) তুলনায় ভিত্তি প্রভাব বা বেস এফেক্স দুর্বল হয়ে আসায় মূল্যস্ফীতির হার কিছুটা বেশি দেখাচ্ছে। তবে খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিলেও কোর মূল্যস্ফীতি ও ডিসেম্বর মাসে সামান্য বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে বোঝা যাচ্ছে যে পরিষেবা ও অন্যান্য পণ্যের দামেও ধীরে ধীরে চাপ তৈরি হচ্ছে। অবশ্য তা এখনই উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। আবার ইতিবাচক দিক হলো, সম্ভাব্য ১.৫০% মূল্যস্ফীতি এখনও রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার বা RBI-এর ৪% লক্ষ্যের অনেক নীচে রয়েছে। এর ফলে মুদ্রানীতির ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের উপর তাৎক্ষনিক কোনও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে না।
অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, দীর্ঘ সময় ধরেই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে থাকায় RBI সুদের হার নিয়ে শ্লো ও সতর্ক পদক্ষেপ নিতে পারছে। অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী মাসগুলিতে মূল্যস্ফীতির গতিপথ অনেকটাই নির্ভর করবে খাদ্যদ্রব্যের দাম, আন্তর্জাতিক তেলের বাজার এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উপর। একই সঙ্গে নতুন CPI বেস ইয়ার চালু হলে ভবিষ্যতে মূল্যস্ফীতির হিসাবেও কিছু পরিবর্তন দেখা যেতে পারে। অর্থাৎ বলা যায় যে ডিসেম্বর মাসে ভোক্তা মূল্যস্ফীতিতে সামান্য বৃদ্ধি দেখা গেলেও তা নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। আর বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অর্থনীতির স্থিতিশীলতার দিক থেকে এই পরিস্থিতির আপাতত স্বস্তিদায়ক।




