Article By – সুনন্দা সেন

ভারতের বুলিয়ন বাজারে রুপোর দামে নতুন উচ্চতা দেখা যাচ্ছে। চলতি সপ্তাহের বুধবার (৭ জানুয়ারি, ২০২৬) MCX-এ রুপোর ফিউচার্সের দাম কেজিপ্রতি ২.৫০ লক্ষ কোটি টাকার উপরে উঠে গিয়েছে। যা প্রায় সর্বোচ্চ রেকর্ড স্তরের একটি অংশ। আন্তর্জাতিক বাজারে শক্তিশালী চাহিদা, নিরাপদ বিনিয়োগের প্রতি আগ্রহ এবং মার্কিন অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রভাবেই রুপোর দামে এই তীব্র উত্থান দেখা যাচ্ছে। আর রুপোর দামে এই উত্থানও বিনিয়োগকারীদের নজর কেড়েছে।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্য কিছুটা দুর্বল আসায় সুদের হার কমতে পারার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ডলার কিছুটা চাপে থাকছে এবং স্বাভাবিকভাবেই সোনা-রুপোর মতো মূল্যবান ধাতুর প্রতি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগ বিষয় আগ্রহ বাড়ছে। পাশাপাশি ইন্ডাস্ট্রিয়াল খাতে রুপোর চাহিদা এবং সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগ দাম বাড়াতে সহায়ক হিসাবে কাজ করছে। এদিকে বাজারের নজর রয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ট্যারিফ সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের দিকে। এই মামলাটি মূলত সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আমলে আরোপিত কিছু বৈশ্বিক শুল্ক বা ট্যারিফ নীতির বৈধতা নিয়ে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, যদি আদালতের রায় ট্যারিফ নীতির বিপক্ষে যায়। তবে তা বিশ্ববাজারে ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে পারে এবং নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনা-রুপোর চাহিদা সাময়িকভাবে কমতেও পারে। তবে আদালতের রায় বিলম্বিত হওয়ায় বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই অনিশ্চয়তাই আপাতত রুপোর দামে সমর্থন জোগাচ্ছে বলে মত বিশ্লেষকদের। তাঁরা বলছেন, স্বল্পমেয়াদে রুপোর দামে ওঠানামা থাকলেও আন্তর্জাতিক সংকেত, মার্কিন নীতি সিদ্ধান্ত এবং ডলারের গতিপ্রকৃতি ভবিষ্যতে দামের দিকনির্দেশ ঠিক করবে। আর বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, উচ্চ দামে বিনিয়োগের আগে বাজারের ঝুঁকি এবং বৈশ্বিক ঘটনাপ্রবাহ ভালোভাবে বিবেচনা করা জরুরি।




