Article By – সুনন্দা সেন

বিনিয়োগকারীরা মুনাফা বুকিংয়ে অগ্রসর হওয়ায়, গত ১০ দিনে প্রতি কেজি রুপোর দাম ১৭% কমেছে, যার ফলে প্রতি কেজি রুপোর দামে প্রায় ৩১,০০০ টাকার পতন লক্ষ্য করা গেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ২৪ অক্টোবর স্পট সিলভার প্রাইস প্রতি ট্রয় আউন্স ৪৮.৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে। যা এক সপ্তাহ আগে ৫৪.৪৭ ডলার ছিল। বুলিয়ান ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন থেকে লন্ডনে রুপোর প্রচুর প্রবাহ আপাতত দাম কমাতে সাহায্য করেছে। লন্ডন সোনার বাজার বিশ্বব্যাপী রুপোর লেনদেনের প্রধান ক্লিয়ারিং পয়েন্ট, তাই এই পয়েন্টে দাম কমলে তার প্রভাব সরাসরি বিশ্বের সকল মার্কেটেই পড়বে।
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে ভৌত মজুদের ঘাটতির কারণে ১৪ অক্টোবর, ২০২৫-এ ভারতের স্পট সিলভারের দাম সর্বকালের সর্বোচ্চ অর্থাৎ ১.৭৮ লক্ষ টাকা / কেজিতে পৌঁছেছিল। এছাড়া জানা যাচ্ছে যে গত সপ্তাহে সোনার দামও কমেছে। শুক্রবার (২৪ অক্টোবর) রিটেইল মার্কেটে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৮,৩৯৫ টাকা বা ৬.৪১% কমে ১,২২,৪১৯ টাকায় দাঁড়িয়েছে। এক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন যে স্বল্পমেয়াদী বিক্রি এবং শক্তিশালী মার্কিন ডলারের কারণে সোনার দাম কমেছে। যদিও মোট রুপোর উৎপাদন ২৬,০০০ টনে দাঁড়ানোতে এই বছর ৬,০০০-৭,৫০০০ টন ঘাটতি রয়েছে, যা সাম্প্রতিক দশকগুলির মধ্যে সবচেয়ে বড়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিশ্বব্যাপী রূপার সরবরাহে ঘাটতি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। ওয়াশিংটন-ভিত্তিক সিলভার ইনস্টিটিউটের মতে, ২০২০ সাল থেকে রুপোর বিশ্বব্যাপী চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগ রূপো খনন সোনা, সীসা বা দস্তা খনির উপজাত হিসাবে ঘটে। অতএব, এই ধাতুগুলির খনন বৃদ্ধি না হওয়া পর্যন্ত রুপোর সরবরাহ সীমাবদ্ধ থাকবে। সাথে উল্লেখ করেছে যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে পরিকল্পিত শীর্ষ সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে সম্ভাব্য বৈঠক নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে। তাই, চলমান বিশ্বব্যাপী অনিশ্চয়তার কারণে যেকোনো পতন নতুন করে ক্রয় আগ্রহের জন্ম দিতে পারে।




