Article By – সুনন্দা সেন

দেশে জানুয়ারি মাসের খুচরা মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ২.৭৫ শতাংশ। এটি নতুন ভোক্তা মূল্য সূচক বা CPI (Consumer Price Index) সিরিজের অধীনে প্রকাশিত প্রথম পরিসংখ্যান। পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রক জানিয়েছে, এবার থেকে CPI-র বেস বছর ২০১২ থেকে পরিবর্তন করে ২০২৪ করা হয়েছে, যাতে বর্তমান ভোক্তা ব্যয় ও জীবনযাত্রার ধরণ আরও বাস্তবসম্মতভাবে প্রতিফলিত হয়। রিজার্ভ ব্যাংকের নির্ধারিত ২% থেকে ৬%- এর লক্ষ্যসীমার মধ্যেই এই মুদ্রাস্ফীতি রয়েছে। ফলে মূল্যবৃদ্ধির চাপ আপাতত নিয়ন্ত্রণে আছে বলেই মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
আবার পৃথক ভাবে দেখলে, গ্রামীণ এলাকায় মুদ্রাস্ফীতি প্রায় ২.৭৩% এবং শহুরে অঞ্চলে প্রায় ২.৭৭% —দুই ক্ষেত্রেই পার্থক্য খুব বেশি নয়। এছাড়া নতুন CPI বাস্কেটে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। খাদ্যদ্রব্যের মূল্যের ওজন কিছুটা কমানো হয়েছে, আর আবাসন, স্বাস্থ্য, পরিবহন, শিক্ষা ও বিভিন্ন পরিষেবা খাতে গুরুত্ব বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি ডিজিটাল সাবস্ক্রিপশন, অনলাইন পরিষেবা ও আধুনিক খরচের ধরনও সূচকে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। এর ফলে মুদ্রাস্ফীতির হিসাব বর্তমান অর্থনীতির কাঠামোর সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
খাদ্যদ্রব্যের দামে বড়সড় উত্থান না হওয়ায় সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতি কম রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সবজি ও শস্যের দামের স্থিতিশীলতা এতে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে জ্বালানি ও পরিষেবা খাতে সামান্য চাপ দেখা গেলেও তা সামগ্রিক সূচকে বড় প্রভাব ফেলেনি। অর্থনীতিবিদদের মতে, নতুন সিরিজের CPI তথ্য নীতিনির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে। রিজার্ভ ব্যাংক সুদের হার নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই সূচককে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ব্যবহার করে। বর্তমান পরিস্থিতিতে মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রিত থাকায় নীতিগত সুদের হার স্থিতিশীল রাখার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে। অর্থাৎ নতুন CPI সিরিজে প্রথম প্রকাশিত জানুয়ারির ২.৭৫% মুদ্রাস্ফীতি দেশের অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক ইঙ্গিত বহন করছে।




