Article By – সুনন্দা সেন

ভারতে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, রাষ্ট্রায়ত্ত তেল বিপণন সংস্থাগুলি বা OMCs বর্তমানে যে ক্ষতির মুখে পড়েছে, তা পূরণ করতে ফুয়েলের দাম লিটারপ্রতি সর্বোচ্চ ১২ টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর প্রয়োজন হতে পারে। গত মে মাসে টানা চার দফা মূল্যবৃদ্ধির ফলে পেট্রোল ও ডিজেলের দাম প্রায় ৭.৫ টাকা প্রতি লিটার বেড়েছে। কিন্তু তাতেও পরিস্থিতির খুব একটা উন্নতি হয়নি।
বর্তমানে তেল সংস্থাগুলি লাভ তো করতেই পারছে না, উল্টে পেট্রোলে প্রায় ৫.৫ টাকা এবং ডিজেলে প্রায় ৪.৫ টাকা প্রতি লিটার লোকসান করছে বলে বাজার বিশ্লেষকদের হিসাব। এই সংকটের প্রধান কারণ আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারের উপরে উঠে যাওয়া। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত, সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা এবং রুপির দুর্বলতা মিলিয়ে ভারতের তেল আমদানির খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে তেল সংস্থাগুলিকে বেশি দামে ক্রুড অয়েল কিনে কম দামে জ্বালানি বিক্রি করতে হচ্ছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্থান পেট্রোলিয়াম মিলিয়ে প্রতিদিন প্রায় ৫৫০ কোটি টাকার ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে আরও মূল্যবৃদ্ধি না হলে এই সংস্থাগুলির আর্থিক চাপ বাড়তেই থাকবে। এদিকে কিছু শিল্প বিশেষজ্ঞের অনুমান, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হতে পারে। সেই হিসেবে চলতি ত্রৈমাসিকে তেল সংস্থাগুলির সম্মিলিত ক্ষতি ৭৪,০০০ কোটি টাকা থেকে ৮৪,০০০ টাকার কোটির মধ্যে পৌঁছাতে পারে।
সাধারণ মানুষের উপর এই দাম বাড়ার প্রভাব নিয়ে বলতে গিয়ে বিশ্লেষকরা বলেন, যদি আবার জ্বালানির দাম বাড়ে, তাহলে শুধু গাড়ি চালানোর খরচই নয়, পরিবহণ ব্যয়ও বাড়বে। এর ফলে খাদ্যপণ্য, নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী এবং বিভিন্ন পরিষেবার দামেও চাপ তৈরি হতে পারে। ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন পরিবহণ সংগঠন ও ট্যাক্সি-অটো চালকরা বাড়তি জ্বালানি খরচের কারণে ভাড়া পুনর্বিবেচনার দাবি তুলতে শুরু করেছেন। অর্থাৎ, সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচের ওপর নতুন চাপ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




