Article By – সুনন্দা সেন

সময়ের সাথে সাথে একটি পণ্য কতটা ব্যয়বহুল বা সস্তা হয়, তা সরকার কর্তৃক উপস্থাপিত খুচরা মুদ্রাস্ফীতির তথ্য দ্বারা পরিমাপ করা হয়। ভারতে এই তথ্য সাধারণত প্রতি মাসের ১২ তারিখে উপস্থাপন করা হয়। কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি বাস্তবায়ন মন্ত্রণালয় (Union Statistics and Programme Implementation Ministry) ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫, জানুয়ারি মাসের খুচরা মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করেছে। মন্ত্রণালয়ের প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, মেট্রিক ৪.৩১%-এ নেমে এসেছে। যা ২০২৪ সালের আগস্টের পর থেকে সর্বনিম্ন স্তর। যেহেতু খুচরা মূল্যস্ফীতি ভারতীয়দের জন্য কেনাকাটা কতটা সস্তা বা ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে তাও ব্যপকভাবে উপস্থাপন করে।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে সর্বোচ্চ মুদ্রাস্ফীতির হার সহ শীর্ষ পাঁচটি পণ্যের মধ্যে রয়েছে নারকেল তেল (৫৪.২০%), আলু (৪৯.৬১%), নারকেল (৩৮.৭১%), রসুন (৩০.৬৫%), মটর (৩০.১৭%)। জিরা (- ৩২.২৫%), আদা (- ৩০.৯২%), শুকনো মরিচ (- ১১.২৭%), বেগুন (- ৯.৯৪%), LPG (-৯.২৯%) সহ সর্বনিম্ন মূল্যস্ফীতির হারযুক্ত পণ্য। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খাদ্য ও পানিয়ের সামগ্রিক দাম সামান্য হ্রাস পেয়েছে। এর মধ্যে ডিম, শাকসবজি, চিনি এবং মিষ্টান্ন জাতীয় পণ্যের দাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মশলা, ডাল এবং সংশ্লিষ্ট পণ্যের দাম কমেছে। পান, তামাক এবং নেশার জিনিসপত্রের দামও সামান্য কমেছে। খাদ্যশস্য, মাংস, মাছ, দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্য, তেল, চর্বি, ফল, অ্যালকোহলবিহীন পানীয়, প্রসেস ফুড, স্ন্যাকস এবং মিষ্টির দাম বৃদ্ধি পেয়েছে।
পণ্যের দাম এক মাসের ব্যবধানে বেড়েছে। তবুও ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তুলনায় মূল্যবৃদ্ধির পরিমাণ কমেছে। এটি গণনা করার জন্য, ভোক্তা মূল্য সূচক (CPI) ব্যবহার করা হয়। ২০২৪ সালের জানুয়ারী মাসের CPI তথ্য ছিল ১৮৫.৫, যেখানে ২০২৫ সালের জানুয়ারী মাসের তথ্যে ছিল ১৯৩.৫। দুই মাসের CPI মানের মধ্যে পার্থক্যকে মুদ্রাস্ফীতির হার বলা হয়, যা এই ক্ষেত্রে ৪.৩১%। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে এই সংখ্যা ছিল ৫.২২% এবং ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে ৫.১০%। আরও জানা যাচ্ছে যে পরিবহন ও যোগাযোগের মুদ্রাস্ফীতি ২.৬৪% থেকে বেড়ে ২.৭৬% হয়েছে। অন্যদিকে জ্বালানি ও আলোর (Fuel and Light) মূল্যস্ফীতি, যা দামে পতন দেখছে, -১.৩৩% থেকে কমে -১.৩৮% হয়েছে।




