আর্থিক পরিকল্পনার দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল সঞ্চয় ও বিনিয়োগ। কিন্তু এই দুটি বিষয়ের উদ্দেশ্য আলাদা এবং কৌশলও ভিন্ন। সঞ্চয় ও বিনিয়োগের মধ্যে পার্থক্য বুঝলে নিজের আর্থিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিজেই নেওয়া যায়।
সঞ্চয় বা সেভিংস কী?
আমরা প্রায়ই savings এবং investment কথা দুটিকে একে অপরের পরিবর্তে ব্যবহার করি। যদিও এই দুটির মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে। প্রতি মাসে আপনার আয়ের থেকে খরচ বাদে surplus বা অতিরিক্ত যে অর্থ থাকে, তাকেই সেভিংস বা সঞ্চয় বলে। এই অর্থ আপনি নিজের কাছে গচ্ছিত রাখতে পারেন যার থেকে কোনো রিটার্ন আসবে না। অথবা এই টাকা আপনি savings A/C বা money market mutual fund-এর মতো অত্যন্ত কম ঝুঁকিযুক্ত জায়গায় রাখতে পারেন, যাতে রিটার্ন মিলবে, তবে খুবই সামান্য। অর্থাৎ সেভিংসের মূল উদ্দেশ্য হল লিক্যুইডিটি বজায় রাখা এবং অর্থের নিরাপত্তা। সেভিংস মূলত স্বল্পমেয়াদি আর্থিক লক্ষ্য পূরণ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কাজে লাগে।
বিনিয়োগ বা ইনভেস্টমেন্ট কী?
দীর্ঘ সময় ধরে স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড, রিয়াল এস্টেটের মতো আর্থিক সম্পদে অর্থ রেখে ভালো রিটার্ন জেনারেট করার নামই হল বিনিয়োগ। বিনিয়োগের আসল লক্ষ্যই হল লং টার্মে অর্থ রেখে দিয়ে সামান্য বেশি ঝুঁকিতে বেশি রিটার্ন পাওয়া।
সুতরাং সেভিংস ও ইনভেস্টমেন্টের মধ্যে পার্থক্য হল— সেভিংসে সাধারণত সবচেয়ে সুরক্ষিত জায়গায় অর্থ রাখা হয় যেখান থেকে যে-কোনো সময় নগদ অর্থ পাওয়া যেতে পারে। সেভিংস-এ ঝুঁকি প্রায় নেই বললেই চলে এবং সেই কারণে সেভিংস থেকে রিটার্ন খুবই কম। আর অন্যদিকে, সেভিংসের তুলনায় অর্থ হানির সম্ভাবনা প্রচুর গুণে বেড়ে যায় ইনভেস্টমেন্টের ক্ষেত্রে। স্টক বা ইক্যুইটি মিউচ্যুয়াল ফান্ডে রাখা অর্থের কোনো নিশ্চয়তা নেই। তবে কম্পাউন্ডিং-এর সুবিধা পেতে এবং বেশি রিটার্ন জেনারেট করতে এই পরিমাণ ঝুঁকি নিতেই হয়।
সেভিংস কেন দরকার?
আমরা আগেই জানলাম যে সঞ্চয় ও বিনিয়োগ একে অপরের সঙ্গে যুক্ত। সবার প্রথমে আপনাকে নিজের আয় থেকে সঞ্চয়ের জন্য অর্থ সরিয়ে রাখতে হয় এবং সেই সঞ্চয় থেকেই বিনিয়োগ করতে হয়। তবে আর্থিক পরিকল্পনার ক্ষেত্রে সঞ্চয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়ে থাকে –
→ সেভিংসের প্রাথমিক লক্ষ্যই হল লিক্যুইডিটি প্রদান। এমন অনেক সময় আমাদের জীবনে আসে যখন জরুরি বা আপদকালীন সময়ে আমাদের ইনভেস্টমেন্ট বিক্রি করে অর্থের যোগান করতে হয়। পরিবারের চিকিৎসাজনিত জরুরি অবস্থা হোক অথবা চাকরি হারানোর মতো পরিস্থিতি আসুক— যে-কোনো ধরনের এমারজেন্সির ক্ষেত্রে সেভিংসের লিক্যুইডিটি সঠিক সময়ে অর্থের যোগানে সাহায্য করে।
→ সেভিংসের ফলে আপনার অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে। মূলত স্বল্পমেয়াদি লক্ষ্য পূরণই সেভিংসের উদ্দেশ্য।
বিনিয়োগ কেন দরকার?
→ দীর্ঘমেয়াদে জমা অর্থ থেকে ভালো রিটার্ন পাওয়ার জন্য বিনিয়োগ প্রয়োজন।
→ আপনার জমানো অর্থ মুদ্রাস্ফীতির কারণে ধীরে ধীরে কমতে থাকে। বিনিয়োগের ফলে কম্পাউন্ডিং-এর সুবিধা পাওয়া যায়, সেই জন্য মুদ্রাস্ফীতিকে পাল্লা দিয়ে দীর্ঘমেয়াদে জমানো অর্থের পরিমাণ অনেকটা বেড়ে যায়।
→ বিনিয়োগ থেকে প্রাপ্ত রিটার্ন প্রচুর অর্থ তৈরিতে সাহায্য করে এবং এর জন্য যে ঝুঁকি নিতে হয় তা দীর্ঘমেয়াদে অনেকখানি কমে আসে এবং market volatility অনেক কম থাকে। সেই কারণে অবসরের মতো দরকারি আর্থিক সিদ্ধান্তেও বিনিয়োগকৃত অর্থ সাহায্য করে।
সঞ্চয় নাকি বিনিয়োগ— সম্পদ তৈরিতে কোনটি দরকার?
আমরা সবাই wealth creation বা সম্পদ তৈরি করতে চাই। সেই জন্য কোনটি বেশি উপযোগী? আসুন দেখা যাক।
Savings
| Particulars | Bank Savings A/C | Liquid fund |
| SIP (monthly) | 5000 | 5000 |
| Period | 20 years | 20 years |
| Return | 3% | 6% |
| Total savings | 12 lakhs | 12 lakhs |
| After 20 years | 16.46 lakhs | 23.22 lakhs |
Investment
| Particulars | Stocks | Equity fund |
| SIP (monthly) | 5000/- | 5000/- |
| Period | 20 years | 20 years |
| Return | 10% | 15% |
| Total investment | 12 lakhs | 12 lakhs |
| After 20 years | 38.28 lakhs | 75.80 lakhs |
উপরের টেবিল দুটি থেকে বোঝা গেল বিনিয়োগের ফলে মোট corpus বৃদ্ধির পরিমাণ অনেক বেশি। যেহেতু বিনিয়োগের ক্ষেত্রে রিটার্ন অনেকটাই বেশি, তাই মোট জমানো অর্থের পরিমাণ বেশ কয়েকগুণ বৃদ্ধির সুযোগ থাকে বিনিয়োগে। তবে মনে রাখতে হবে স্টক বা equity mutual fund-এ বিনিয়োগে রিটার্নের নিশ্চয়তা নেই। সেই কারণে বিনিয়োগের সময়ে ঝুঁকি, রিটার্ন, বিনিয়োগ লক্ষ্য বুঝে invest করা উচিত।
অন্যদিকে লিক্যুইডিটি বজায় রাখতে স্বল্পমেয়াদি সঞ্চয় একান্তই প্রয়োজন। এতে ঝুঁকি অনেক কম আর সেই কারণে অর্থের নিশ্চয়তা থাকে। সুতরাং আপনার আর্থিক পরিকল্পনায় সঞ্চয় ও বিনিয়োগের সঠিক মেলবন্ধন থাকলে স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলি যথাযথভাবে পূরণ করা সম্ভব হবে।





